Galileo Galilei Biography In Bengali – গ্যালিলিও গ্যালিলি জীবনী

Galileo Galilei Biography In Bengali – গ্যালিলিও গ্যালিলি জীবনী
Galileo Galilei Biography In Bengali – গ্যালিলিও গ্যালিলি জীবনী

Galileo Galilei Biography In Bengali – গ্যালিলিও গ্যালিলি জীবনী: আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি মহান ব্যক্তিদের জীবনী সমগ্র। মহান ব্যক্তি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁদের জীবনের ক্ষুদ্রতম অংশগুলি আমাদের জন্য শিক্ষামূলক হতে পারে।

Galileo Galilei Biography In Bengali – গ্যালিলিও গ্যালিলি জীবনী

বর্তমানে আমরা এই মহান ব্যক্তিদের ভুলতে বসেছি। যাঁরা যুগ যুগ ধরে তাদের কর্ম ও খ্যাতির মধ্য দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এবং জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্যের জগতে এক অনন্য অবদান রেখেছেন এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠ গুণাবলী, চরিত্র দ্বারা দেশ ও জাতির গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। সেইসব মহান ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি (Galileo Galilei) -এর সমগ্র জীবনী সম্পর্কে এখানে জানব।

গ্যালিলিও গ্যালিলেই জীবনী – Galileo Galilei Biography in Bengali

নামগ্যালিলিও গ্যালিলেই
জন্ম15 ফেব্রুয়ারি 1564
পিতাভিনসেঞ্জো গ্যালিলি
মাতাগিউলিয়া আমানাতি (Giulia Ammannati)
জন্মস্থানপিসা, ইতালি
জাতীয়তাইতালীয়
পেশাপদার্থবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গণিতজ্ঞ এবং দার্শনিক
মৃত্যু8 জানুয়ারী 1642 (বয়স 77)

বিজ্ঞানীদের ভাবনা চিন্তার শুরু হয় ‘কেন’ দিয়ে।

কেন – সেই চিরন্তন জিজ্ঞাসা। অজানাকে জানার তীব্ৰ কৌতূহল৷

এই জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই অন্ধকার সরে যায় দৃষ্টিসীমার ওপর থেকে উদ্ভাসিত হয় সত্যের আলো। আড়ালটা থাকে কেন – আর এই আড়ালকে সরানোই সত্যসন্ধানী বিজ্ঞানীর কাজ।

মানব সভ্যতার অগ্রগতি, যা কিছু আজকের দিনের আবিষ্কার উদ্ভাবন আমরা পাচ্ছি, যা নিয়ে সভ্যতার গৌরবে গৌরবান্বিত হচ্ছি – সব কিছুরই সূচনা – তিলকের চিহ্ন হল ‘কেন ’ নামক প্রশ্নবোধক চিহ্নটি।

ইউরোপে মধ্যযুগের অন্ধকারে নতুন যুগের আলোকসম্পাত ঘটিয়েছিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলি। তার হাতে ছিল ‘ কেন ’ – এর মশাল। সেই মশাল উদ্ভাসিত ছিল তাঁর প্রতিভার আলোকে।

গ্যালিলিও গ্যালিলেই কে ছিলেন? Who is Galileo Galilei?

পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে যে প্রাচীন অবৈজ্ঞানিক ধ্যানধারণার ব্যাপক প্রচলন সমাজ মেনে নিয়ে চলছিল, গ্যালিলিও সেখানে ইতি টানলেন, যথার্থ সত্যের প্রতিষ্ঠা করলেন নির্ভীক সৈনিকের মত। প্রমাণ করলেন প্রচলিত ধ্যানধারণার ভিত্তি ছিল ভ্রান্তি।

খ্রিস্টীয় ধর্ম বিশ্ববাসীদের মতে সত্য হয়ে ছিল যে, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, পৃথিবী হল স্থির এক গ্রহ।

গ্যালিলিও তাদের চিরাচরিত ধারণায় আঘাত হেনে প্রথম জানালেন, পৃথিবীই সচল, সূর্য স্থির, পৃথিবী তার চারপাশে ঘোরে – প্রমাণও করলেন।

মহাজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের বহু যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক চিন্তাকেও তিনি দাঁড় করালেন কেন – এর কাঠগড়ায়।

এই হলেন মানুষের চিন্তার জগতের অন্যতম আধুনিক পুরুষ বিজ্ঞানী – বিপ্লবী গ্যালিলিও।

গ্যালিলিও গ্যালিলেই এর জন্ম: Galileo Galilei’s Birthday

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক গ্যালিলিওর জন্ম হয়েছিল ইতালির পিসা শহরে ১৫৬৪ খ্রিঃ।

গ্যালিলিও গ্যালিলেই এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Galileo Galilei’s Parents And Birth Place

তাঁর পিতা ছিলেন শিল্পী – সুখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। ফলে তার মনেও জন্মে ললিতকলা ও কাব্যে অনুরাগ।

শিল্পের আবেগময় পরিবেশে থেকেও গ্যালিলিওর মনে সেই বাল্যবয়সেই সত্যসন্ধানের অনুসন্ধিৎসা অঙ্কুরিত হয়েছিল। চারপাশের সবকিছুকে তিনি দেখতেন অসীম কৌতূহল নিয়ে। অজানাকে জানার অদম্য আগ্রহ নিয়ে দেখার মধ্যে কোন খুঁত রাখতে চাইতেন না।

কৈশোরেই তিনি নানারকম বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির মডেল তৈরিতে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। সতের বছর বয়সে গ্যালিলিও ভর্তি হয়েছিলেন পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ধর্মবিশ্বাসী পরিবারে জন্ম, তাই তাঁকেও নিয়মিত ভাবে যেতে হত গীর্জায়। যোগ দিতে হত সমবেত প্রার্থনায়।

সেই সময় তার উনিশ বছর বয়স! একদিন বেদীর কাছে শিকল দিয়ে ঝোলানো তেলের প্রদীপের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন।

লক্ষ করলেন একটা সাধারণ ব্যাপার – শিকলের দোলার সঙ্গে বাতিটা দুলছে এদিক থেকে ওদিকে।

কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল হতেই তিনি সচমকে দেখলেন, প্রদীপের প্রতিটি দোলনের বিস্তার প্রতিবারে আগের চেয়ে কমে যাচ্ছে- অথচ সময় লাগছে একই।

প্রশ্নের কাঁটা গেঁথে গেল অনুসন্ধিৎসু গ্যালিলিওর চিন্তার জগতে। কেন এমন হচ্ছে? সময় একই অথচ দোলনের বিস্তার কমে যাচ্ছে কেন?

এই জিজ্ঞাসার জবাব সন্ধান করেই পরবর্তীকালে গ্যালিলিও আবিষ্কার করলেন ঘড়ির পেন্ডুলামের সূত্র।

এই সূত্র ব্যবহার করেই আজ প্রায় পাঁচশ বছর পরেও সময়ের গতি নির্ধারণ করা হয়। নিয়ন্ত্রিত হয় ঘড়ির সময়।

গ্যালিলিও গ্যালিলেই এর ছোটবেলা: Galileo Galilei’s Childhood

বাল্যে শিক্ষার সুযোগ কম ছিল। এক জেসুইট মঠে তিনি গ্রীক ও লাতিন ভাষা শিক্ষা করেন। অসাধারণ মেধা ও প্রতিভাধর পুত্রকে তার পিতা বিজ্ঞান সাধনায় আত্মনিয়োগ করার সুযোগ দেন চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য।

পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালেই গ্যালিলিওর চিন্তাশক্তি, মনশীলতা, যুক্তিনির্ভর মানসিকতা ও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছিল।

তাঁর নির্ভীক মতামত ও অকাট্য যুক্তির কাছে পরাজিত হতেন তাঁর প্রতিপক্ষ। শিক্ষকরা পর্যন্ত তার স্পষ্টবাদিতা পছন্দ করতেন না।

গ্যালিলিও প্রাচীন মনীষীদের চিন্তাধারারও সমালোচনা করতে কুণ্ঠিত হতেন না। বিশ্ববিশ্রুত মহাপ্রাজ্ঞ অ্যারিস্টটল সিদ্ধান্ত করেছিলেন; কোন উঁচু জায়গা থেকে একই সময়ে কোন ভারি বস্তু ও একটি হাল্কা বস্তু ফেললে ভারি বস্তু হাল্কা বস্তুর আগে নিচে পড়বে।

গ্যালিলিও পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করলেন এই সিদ্ধান্ত ভুল, -ওপর থেকে নিচে ফেলা ভারি বস্তু ও হাল্কা বস্তু একই সঙ্গে নিচে পড়বে।

এই নিয়ে তাঁকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছিল। তিনি পিসার বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

গ্যালিলিও গ্যালিলেই এর প্রথম জীবন: Galileo Galilei’s Early Life

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তার গণিতশাস্ত্রে বিশেষ অনুরাগ জন্মে। তিনি ইউক্লিড আর্কিমিডিস প্রভৃতি মনীষার গবেষণা গভীর মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়ন করেন।

এই সময় তিনি নিশ্চিত রূপে অনুধাবন করেন, সমস্ত বস্তু সম্বন্ধে পরীক্ষালব্ধ তথ্য গাণিতিক সূত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করার মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞানের অগ্রগতি নির্ভর করে।

এই সিদ্ধান্তই তাঁকে পরবর্তীকালে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের পথিকৃতের গৌরব দান করেছিল।

চিকিৎসাশাস্ত্রের অধ্যয়ন বেশিদূর এগোল না। আর্থিক কারণে মাঝপথেই বন্ধ করতে হল।

কিন্তু তাঁর নিজস্ব গবেষণা বন্ধ হল না। কিছুদিনের মধ্যেই আর্কিমিডিসের অনুসরণে তিনি এমন একটি নিক্তি তৈরি করেন যার দ্বারা মিশ্রিত ধাতুসমূহের মধ্যে কোন একটির উপাদানের পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।

গণিতে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন গ্যালিলিও। তাঁর সেই খ্যাতি আরও বৃদ্ধি করেছিল তার অসাধারণ আবিষ্কার সমূহ।

কিন্তু নির্ভীক ও স্বাধীন মতামত প্রকাশের জন্য তিনি পশ্চিম ইউরোপে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই অধ্যাপকের পদ লাভ করতে পারেননি। তবুও কিছু বন্ধুর সহায়তায় শেষ পর্যন্ত পিসায় অধ্যাপকের পদ লাভ করেছিলেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর পাদুয়ায় ছিলেন গ্যালিলিও। এই সময়ে তাঁর বিজ্ঞান সাধনা অনেক নজির সৃষ্টি করে।

তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল৷ (১) বলবিদ্যার গবেষণার পূর্ণতায় আরও অগ্রগতি (২) ভার্চুয়াল ওয়ার্ক নামে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব ও নানাবিধ সূক্ষ্ম হিসাব নিকাশের স্কেটর আবিষ্কার (৩) নিজস্ব কারখানায় সর্বপ্রথম দিকনির্ণয় যন্ত্র নির্মাণ (৪) তরল পদার্থের ধর্ম ও পাম্পের কার্যপ্রণালী নির্ধারণ (৫) সমর – স্থাপত্য ও দুর্গ প্রভৃতির নির্মাণ কৌশল।

প্রাঞ্জল ভাষায় বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর গ্যালিলিও যেসব বক্তৃতা দিতেন, সারা ইউরোপের বৈজ্ঞানিক মহলে তা আগ্রহের সঞ্চার করত। বিজ্ঞান বিষয়ের বক্তা হিসেবে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।

কোপারনিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বগুলির অভ্রান্ততা গ্যালিলিও গবেষণার দ্বারা প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু গীর্জার যাজকদের ভয়ে তখনই তিনি তা প্রকাশ করতে সাহসী হননি।

১৫৯৭ খ্রিঃ যোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্বন্ধে একটি গ্রন্থ গ্যালিলিওকে উপহার দেন। সেই সঙ্গে অনুরোধ জানান, কোপারনিকাসের বিশ্বতত্ত্ব প্রকাশ করবার জন্য।

১৬০৪ খ্রিঃ মহাকাশে সুপারনোভার আবির্ভাব হলে গ্যালিলিও জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হন। এই সময়েই তিনি বিশ্বতত্ত্ব সম্বন্ধে বাইবেলের ভুল প্রচারের কথা প্রকাশ করেন।

Galileo Galilei Discoveries : গ্যালিলিও গ্যালিলি আবিষ্কার

গ্যালিলিও নিজস্ব চেষ্টায় একটি অতি শক্তিশালী দূরবীন আবিষ্কার করেছিলেন। এই দূরবীনের সাহায্যে তিনি মহাকাশের অনস্ত রহস্যের যবনিকা তোলেন। তিনিই প্রথম দেখেন চাঁদে উঁচু পাহাড় ও গভীর খাদ, আর প্রস্তরময় মরুভূমি।

মহাকাশের ছায়াপথ যে অসংখ্য নক্ষত্রের সমাবেশ ছাড়া কিছু নয়, একথা তিনিই প্রথম প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতির চারটি গ্রহ ও শুক্রের কলা তিনিই আবিষ্কার করেন প্রথম।

নিজস্ব দূরবীনের সাহায্যে একসময় আবিষ্কার করেন সৌরকলঙ্ক।

গ্যালিলিও তাঁর রচিত The Messengers of Stars গ্রন্থে সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্বের সুস্পষ্ট প্রয়োগ দেখান। এছাড়া অসংখ্য পরীক্ষা – নিরীক্ষার মাধ্যমে বস্তুর অন্তর্নিহিত অনেক রহস্য উদ্ঘাটন করেন।

বস্তুর গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধে দুই হাজার বছর আগেকার অ্যারিস্টটলের মতবাদের অনেকগুলিই যে ভ্রান্ত গ্যালিলিও তা প্রমাণ করেন। বস্তুর গতি নিয়ে ব্যাপক গবেষণার পর তিনি বস্তুর ত্বরণ ও জাড্য নির্ণয় করেন। বস্তুর ভরকেন্দ্র গবেষণাকালে আবিষ্কার করেন সাইক্লয়েড।

গ্যলিলিও নিউটনের জন্মের পঞ্চাশ বছর আগেই গতিসূত্র ও আধুনিক বলবিদ্যার সূচনা করেন।

মাত্র ২৬ বছর বয়সেই এইসব অসাধারণ গবেষণা শেষ করে গ্যালিলিও প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন। তার সমস্ত বৈজ্ঞানিক মতবাদই সে যুগের বিজ্ঞানীদের নিকট সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে প্রাচীনপন্থীরা বিশেষ করে যাজক সম্প্রদায় তাঁর প্রতি ক্রুদ্ধ হন। কেননা তাঁর বিজ্ঞানসাধনা হয়ে উঠেছিল রক্ষণশীল চার্চের উদ্ধত ধ্যানধারণা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ।

মহাকাশ সংক্রান্ত গ্যালিলিওর আবিষ্কারে গীর্জার যাজকেরা ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে বিধর্মী ও ভগবৎবিদ্বেষী বলে ঘোষণা করে।

১৬১৯ খ্রিঃ পাদুয়া থেকে ফ্লোরেন্সের পিসায় আসার পরে কুসংস্কারাচ্ছন্ন জেসুইটরা তাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন।

রোমের মিনার্ভা চার্চে ইনকুইজিশনের সামনে তিনি অধার্মিক হিসেবে ধিকৃত হন। তাঁকে বলা হয়, এতদিন তিনি যেসব ধর্মবিরোধী ও শয়তানী চিন্তা পোষণ করেছেন, তা এখন থেকে ঘৃণার সঙ্গে পরিত্যাগ করে কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ প্রকাশ না করলে তাঁকে অনন্ত কারাবাসে বন্দী থাকতে হবে।

গ্যালিলিও গ্যালিলেই এর কর্ম জীবন: Galileo Galilei’s Work Life

১৬১৬ খ্রিঃ কোপারনিকাসের পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে, সূর্যের অবস্থান স্থির ইত্যাদি তথ্য – সত্য জেনেও তা অসত্য বলে তাকে স্বীকার করতে হয় মুক্তির স্বার্থে।

১৬২৩ খ্রিঃ গ্যালিলিওর বন্ধু কার্ডিনাল বারবেরিয়ান পোপের পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি ধূমকেতুর ওপরে লেখা তাঁর The Asseyes নামক গ্রন্থটি পোপকে উপহার দেন।

জীবনের দীর্ঘ চল্লিশ বছরের গবেষণাকে ছয় বছরের পরিশ্রমে রূপ দেন ডায়ালগ কনসার্নিং টু দ্য প্রিন্সিপ্যাল সিসটেমস অব দ্য ওয়ার্লড গ্রন্থে।

এই পুস্তক প্রকাশের পর ক্রুদ্ধ যাজকরা গ্যালিলিওকে গৃহে অন্তরীণ করেন। তখন তাঁর বয়স সত্তর।

সেই বন্দী অবস্থাতেও তিনি লিখলেন ডায়ালগ কনসার্নিং দ্য টু নিউ সায়েন্সেস। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় হল্যান্ড থেকে।

কিছুদিন পরেই তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। চার্চের শাস্তিও তুলে নেওয়া হয় – গৃহবন্দিত্বের দন্ড থেকে মুক্তি লাভ করেন।

গ্যালিলিও গ্যালিলেই এর মৃত্যু: Galileo Galilei’s Death

গৃহবন্দিত্ব না থাকায় দেশ বিদেশের জ্ঞানী – গুণী ব্যক্তিরা আসতেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। অন্ধ অবস্থাতেই কাটালেন আরও চার বছর। তারপর ১৬৪২ খ্রিঃ ৭৮ বছর বয়েস চির নিদ্রার কোলে শান্তি লাভ করলেন।

আরও পড়ুন-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here