What Is Career Education – ক্যারিয়ার কি বা ক্যারিয়ার শিক্ষা কি

Career For Successful Life - সফল জীবনের জন্য ক্যারিয়ার
Career For Successful Life - সফল জীবনের জন্য ক্যারিয়ার

ক্যারিয়ার কি বা ক্যারিয়ার শিক্ষা কি – What Is Career Education

ক্যারিয়ার কি বা ক্যারিয়ার শিক্ষা কি – What Is Career Education – জীবন বাঁচানোর জন্য জীবিকা হিসাবে মানুষ কোন না কোন কাজ করে থাকে। এই কাজ করার মাধ্যমেই মানুষ কোন একটি বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে জীবিকার পথ হিসেবে তা বেছে নেয়। জীবিকার পথ হিসেবে মানুষ যে পন্থাকে বেছে নেয় তাই মূলত তার ক্যারিয়ার যেমন একজন ডাক্তার তার জীবিকা হিসেবে ডাক্তারি করে থাকেন। এখানে ডাক্তারি করাটাকে তিনি ক্যারিয়ার (What Is Career Education) হিসেবে নিয়েছেন।

আর এজন্য তিনি কোন হাসপাতালে কাজ করেন। সুতরাং আরেকটি বিষয় এখানে চলে আসে যে, কাজ করা আর ক্যারিয়ার এ দুটি বিষয় পরষ্পর সম্পর্ক যুক্ত হলেও একই বিষয় নয়। মূলত মানুষ তার ক্যারিয়ার ঠিক করতে বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে।

আরও একটি উদাহরণ দিয়ে বলা যায়- একজন ছাত্র কোন একটি সাধারন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন বা স্নাতক করার পর হয়ত কোন প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি নিলেন। কিন্তু এ সময়ে তার ক্যারিয়ার কে মার্কেটিং বলাটা ঠিক হবে না। কারণ এক বছর পর তিনি হয়তো অন্য একটি কোম্পানীতে সেলস বা বিক্রয় বিভাগে অথবা হিসাবরক্ষণ বিভাগে চাকরি নিলেন।

এভাবে কয়েক বছর কাজ করার পর তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে তিনি কোন বিভাগে নিজেকে দক্ষ করবেন এবং পরবর্তীকালে সে বিষয়েই নিজের ক্যারিয়ার তৈরী করবেন বা সে বিষয়েই উচ্চপদ গ্রহণ করবেন। এ সময়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের একটি প্রথম এবং প্রধান ধাপ অতিক্রম করবেন। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, ক্যারিয়ারের জন্য আমাদেরকে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করতে হয়।

এ অবস্থায় পরবর্তীকালে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন পন্থা বা বিষয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে যেতে পারে। এ সিদ্ধান্ত নেয়ার অন্যত উপায় হচ্ছে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। এক ব্যক্তি যত শুরু থেকে তার ক্যারিয়ার করতে পারবেন। তিনি তত সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। পরিকল্পনার জন্য যে বিষয়টি দরকার তা হলো, সাফল্য সম্পর্কে ধারণা থাকা।

আরো পড়ুন- পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধির বিজ্ঞানসম্মত কার্যকরি উপায়

ক্যারিয়ার পরামর্শ

প্রথমেই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে নেয়া উচিত। বয়সের যে মুহূর্তেই আপনি থাকেন না কেন আপনি ভবিষ্যতে কি হতে চান কিংবা ভবিষ্যতে আপনার অবস্থান কোথায় হবে তা আপনাকেই ভেবে নিতে হবে। নিজের নির্দিষ্ট প্ল্যান থাকলে ভালো, না থাকলে এখনই ঠিক করে নেওয়া উচিত।

ক্যারিয়ার গ্রাফ চিন্তা করেই জীবন যাপনের ধারা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে মাবাবার পরামর্শ গ্রহণ করার পাশাপাশি আপনার যদি বাড়তি কোনো ইচ্ছা থাকে তবে তাও যথার্থ সময়ে সবার সামনে প্রকাশ করতে হবে। যদি ক্রিকেটার বা নৃত্যশিল্পী হতে চান, তবে নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি খেলা বা নাচ এবং নিজের শারীরিক ফিটনেসের উপরও জোর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভাবনার পাখিরা ইচ্ছে করলেই ডানা মেলতে পারে।

তাই বলে নিজের অবস্থা বুঝার চেষ্টা বাদ দেওয়া চলবে না। আপনার সক্ষমতা আপনার স্বপ্নকে যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তবে বেশির ভাগ সময়ই স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন কিংবা আক্ষেপের বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। কখনও যদি মনে হয় বাস্তবতা স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে, তবে মনকে কষ্ট দিয়ে হলেও সেই পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারলে সময় আপনাকে বাহাবা দিবে।

আপনার জীবনধারায় যেই সময়টাই আসুক না কেন গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং নিজেকে জানার আর নিজের চেষ্টাকে সমর্থন দেয়াই আসল কাজ।

আপনি যদি অংকে দুর্বল হন আর আপনার ধ্যানজ্ঞান হয়ে থাকে বড় বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার, তবে জীবনের অংকই অনেকটা উল্টে অন্যদিকে সাহিত্যে আপনার চরম দখল, অথচ মনের ভেতর কিংবা অভিভাবকের সিদ্ধান্তে
আপনি নিজেকে খুঁজে নেন কমার্সের কোনো বিষয়ে, তবে আপনার ভবিষ্যত সময়কে সহায়তা করবে না এতটুকু।

চেষ্টা করতে হবে সার্বিক ফলাফলটা যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। নিজের দুর্বলতা বা শক্তির জায়গা সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া গেলে সময়কে মানিয়ে নেয়া আপনার হয়ে উঠবে না।

সপ্তাহের শুরুতে কিংবা প্রতিদিন নিজের জন্য একটি প্ল্যান রাখা উচিত। হতে পারে তা ডায়রিতে লিখে কিংবা মোবাইল টুডু লিস্টে -তা লিপবিদ্ধ করে। শুধু প্ল্যান নয় চেষ্টা করতে হবে এই লিখে নেওয়া জীবন প্রণালীকে যথাসম্ভব ফলো করা। প্রথম দিকে অবশ্য রুটিন মেনে চলতে একটু সমস্যা হতে পারে।

শুধু পড়াশোনা নয় কিংবা সারাক্ষণ ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা নয় একজন নির্ভেজাল তরুণের প্রতিদিনের রুটিনে থাকা উচিত খানিকটা খেলাধুলা, খানিকটা আড্ডা কিংবা একটু নেটে দুনিয়াটা দেখে নেওয়া ইত্যাদি কাজও। মনে রাখুন, বন্ধুদের সাথে মজা করতে করতেও অনেক কিছুই শেখা যায় ।

পরিকল্পনা করে শুরু হোক ক্যারিয়ার

কথা কম বলা মন্দ নয়। তাই বলে পরামর্শবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা প্রয়োজনেও মুখ না খোলার অভ্যাসকে তো কিছুতেই ভালো বলা যায় না। তবে অতিরিক্ত কথা বলার অর্থই চিন্তা কম করা, যা কম বুদ্ধিমানেরাই করে থাকে। যে ক্ষুদ্র চিন্তা করে তার কাছ থেকে বৃহৎ কিছু আশা করা যায় না। আবার যে বড় চিন্তা করবে এবং চিন্তার আলোকে কর্মপ্রচেষ্টা চালাবে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ছুটবে, সে ছোট থাকবে এটাও যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না।

নিজের অবস্থান ও সামর্থ্যরে ব্যাপারে সচেতন থেকেই পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিতে হয়। শুধু উপরে দেখা কিংবা শুধুই নিচে দেখার মাঝে লাভ নয়; বরং ক্ষতিই বেশি। নিজের ব্যাপারে পরিপূর্ণ সচেতনতাই সামনে এগিয়ে নিতে পারে। অনেক বিকল্প যখন একসঙ্গে সামনে আসে, তার মধ্য থেকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, উপযুক্ত বিকল্পটি বেছে নেয়ার নাম সিদ্ধান্ত। জীবনের প্রত্যেকটি পদে, এমন হাজার বার আমাদের বিকল্প বেছে নিতে হচ্ছে।

কখনো আমরা সঠিকটা নিতে পারি, কখনো হয়ে যায় ভুল। হয়তো আপনি যে সিদ্ধান্তটা ভালো বুঝবেন, কিন্তু তা গ্রহণ করতে পারছেন না, এমনটিও হতে পারে। নিজের মতের ওপর স্থির থাকা ভালো, যদি সে মত সঠিক হয়। পাহাড়, পর্বত, বৃক্ষরাজি শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্থির অস্তিত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে। স্থিরতাতেই কল্যাণ। ঘন ঘন মত বদলানো বোকামি।

খড়কুটোই শুধু উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে চলে। তাই উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্টকরণ এবং সিদ্ধান্তে অটল অবিচল থাকতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে, কঠিন প্রতিজ্ঞা নিতে হবে। এ ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা অযৌক্তিক। কথা কম বলা মন্দ নয়। তাই বলে পরামর্শবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা প্রয়োজনেও মুখ না খোলার অভ্যাসকে তো কিছুতেই ভালো বলতে পারি না। তবে অতিরিক্ত কথা বলার অর্থই চিন্তা কম করা, যা কম বুদ্ধিমানেরাই করে থাকে।

যে ক্ষুদ্র চিন্তা করে তার কাছ থেকে বৃহৎ কিছু আশা করা যায় না। আবার যে বড় চিন্তা করবে এবং চিন্তার আলোকে কর্মপ্রচেষ্টা চালাবে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে ছুটবে, সে ছোট থাকবে টাও যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। চিন্তা কোনএ মাপের, কোন পর্যায়ের সেটি নির্ণয় করতে পারলেই কোন মাপের মানুষ সেটি বোঝা অনেকটা সহজ হবে।

ইচ্ছার শেষ নেই। সব ইচ্ছা পূরণ হওয়ার নয়। ইচ্ছা অপূরণ থাকে বলেই মানুষ আরো বেঁচে থাকতে চায়। বেঁচে থাকতে চায় বলেই নানা কর্মপ্রচেষ্টা, তৎপরতা, সংগ্রাম ও বাস্তবতা। যদি ইচ্ছাই না থাকে, তবে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না, জীবনে স্থবিরতা নেমে আসে, অনিশ্চিত হয়ে পড়ে জীবনের গতিপ্রবাহ। সিদ্ধান্তগুলো কখনো মামুলি বিষয়, আবার কখনোবা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর হয়ে থাকে।

একজন ব্যক্তি সকালবেলা ঘুম থেকে নাস্তায় কী খাবেন, কোন কাপড় পরবেন এ থেকে শুরু হয় সিদ্ধান্ত- নেয়ার পালা এবং তা নিজ নিজ অবস্থানভেদে কখনো কখনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থাৎ প্রত্যেকটা সময় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়। কোন বিষয়ে পড়ব, কাকে ভোট দেব, কোন পেশা গ্রহণ করব, কোন ব্র্যান্ড পছন্দ করব, জিনিস কোনগুলো কিনব হাজারটা প্রশ্নের ভিড়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আমরা প্রায়ই ইতস্তত করি, কালক্ষেপণ করি। আবার কখনো হুট করে সিদ্ধান্ত নিই, যা পরবর্তীকালে ভুল বলে প্রমাণিত হয়। কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাদের কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে।

চিন্তাশক্তি:

সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আমরা ব্যবহার করি আমাদের চিন্তাশক্তি। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বশর্ত হচ্ছে চিন্তাশক্তি শাণিত করা, তবে সময়মতো সঠিক চিন্তা শেষ করে যিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, তিনিই বুদ্ধিমান।

বুদ্ধিমত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ:

বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ করতে আধুনিক সংজ্ঞা প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়, যিনি একই ধরনের কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধানের মধ্য থেকে সর্বশ্রেষ্ঠটি দ্রুততম সময়ে বেছে নিতে পারেন, বুদ্ধি তত বেশি, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ মানেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

চিন্তা ও আবেগ:

চিন্তার ক্ষেত্রে আবেগকেও মূল্য দিতে হবে। তবে তা অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে। যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাকে দু’ভাবে দেখা যেতে পারে। একটি হচ্ছে পুরো বিষয়টি সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করে একটি একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অথবা ওই বিষয়টিকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি ভাগের জন্য আলাদা সিদ্ধান্ত নিয়ে এরপর মূল সিদ্ধান্তটি নিতে হবে।

প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন:

সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো আপনার মনের প্রশ্ন।

কে ? কে নয় ? কেন ? কীভাবে ? কীভাবে নয় ? কখন ? কোথায় ? কী ? কোনটি ? কোনটি নয় ? প্রভৃতি প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন। এরপর যৌক্তিকভাবে বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করতে হবে। মনে রাখুন, আপনার সিদ্ধান্ত যেন শতভাগ যৌক্তিক হয়।

মনে রাখবেন, পুরো বিষয়টি যত তাড়াতাড়ি সম্পাদন করা যায়, ততই ভালো অন্যের সঙ্গে আলাপের প্রয়োজন হতে পাড়ে। পরামর্শের প্রয়োজন হতে পাড়ে। সে ক্ষেত্রে নিজেকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। খোলামন নিয়ে নির্ভর করা যায়, এমন মানুষের সঙ্গে করতে পারেন। এতে আপনার বিষয়টির অজানা দিকগুলো আপনার সামনে আসতে পারে। এ থেকেও নিতে পারেন সঠিক সিদ্ধান্ত, তবে আপনার সিদ্ধান্ত আপনার নিজের।

সবাই হয়তো সিদ্ধান্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবে, তার মধ্যে থেকে আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে কাউকে অপরাধী করার চিন্তা না থাকাই ভালো। লজ্জা, সংকোচ আপনার সিদ্ধান্তকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত হওয়া চাই দৃঢ়। অনেক সময় য়াজন হতে পারে।

ক্যারিয়ার শুরুর আগে

তোমার জীবনের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য- স্কুলে এই বিষয়ে রচনা লেখেনি এমন শিক্ষার্থী কমই আছে। মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ ইঞ্জনিয়ার, কেউ আবার শিক্ষক ইত্যাদি। শখ অনুযায়ী এই কিশোর বয়স থেকে শুরু করা উচিত ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। কারণ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার আসল সময় এই বয়সটাই। যদি প্রস্তুতিটি সঠিক হয় তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিকল্পনাটির বাস্তব রূপলাভ সম্ভব।

আর সেটা আমাদের প্রচেষ্টা, ইচ্ছা, আগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত সামর্থ্য, দক্ষতা, আগ্রহ, রুচি, উৎসাহ, মূল্যবোধ, স্বপ্ন এবং গুণাবলিকে প্রাধান্য দিতে হবে। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা।

লক্ষ্য নির্ধারন ধীরে সুস্থের বুঝে শুনে, নিজের প্রয়োজন, ইচ্ছা মেধা অনুযায়ী। আজকের এই পৃথিবীতে পেশাই খারাপ নয়। কারো যে বিষয়ে দক্ষতা আছে তার উচিত সে বিষয়েই পড়াশোনা করা। হতে পারে ক্রিকেট, গায়ক, চিত্রশিল্পী বা অন্য যে কোন কিছু। প্রতিভার সাথে সাথে পরিশ্রম থাকলে যে কেউ উন্নতির চরম শীর্ষে পৌছাতে পারবে। তাই জীবনের গতিপথ নির্ধারন করতে হবে একদম শুরু থেকেই। লক্ষ্য স্থির করতে নিজ প্রয়োজনটা জানাও খুবই গুরুত্বপুর্ন। ধরুন, আপনার পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়।

পড়ালেখা চলাকালীন আপনাকে তো সাপোর্ট দিতেই পারবে না বরং আপনাকেই পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে অতি অল্প বয়সে। তাহলে আপনাকে এমন একটা চাকুরী বেছে নিতে হবে যেখানে আপনি অল্প সময়েই অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এরকম কিছু পেশা হচ্ছে, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌ বাহিনীর চাকরী, মেরিন ইন্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইত্যাদি। তবে এধরনের পেশার প্রথম শর্ত শারীরিকভাবে আপনাকে ফিট থাকতে যে শিক্ষার্থী অনার্স এবং মাস্টার্স ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করেছে, পাশ করে বের হবার পরে

বিশ্ববিদ্যালয় বা কোন কলেজের অধ্যাপকের চাকরি না পেলে তাকে অন্য কোন জেনারেল লাইনে যেতে হবে। এক্ষেত্রে তার চার বা পাঁচ বছরের পড়াশুনাটা, চাকরি ক্ষেত্রে তেমন কোন কাজেই আসবে না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এরকম আরও কিছু উদাহরণ দেয়া যেতে পারে– বাংলা ভাষাতত্ত্ব, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আর্কিওলজি, মনোবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস প্রভৃতি। আর্থিক সামর্থ্যকে সমন্বয় করে এইসব সাবজেক্ট সিলেক্ট করাটা শিক্ষার্থীর জন্য জরুরী।

বর্তমান যুগ বানিজ্যের যুগ। আর বানিজ্য যতদিন থাকবে, অর্থনীতি, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় প্রশাসন, ব্যাংকিং প্রভৃতি বিষয়ের চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে। যারা বিভিন্ন বানিজ্যিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী অথবা কিছুদিন চাকরী করে নিজেই কোন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখে।

তার এই বিষয়গুলি বিবেচনায় আনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে সেশন জটে না পরলে, এই বিষয়ে অনার্স বা মাস্টার্স করেও মোটামুটি দ্রুত একটি চাকরি পাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে একটি ব্যাপার উল্লেখ করা দরকার যে, সভ্যতা আর বানিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তাটাও বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভারতেও এই প্রয়োজনীয়তা কম নয়। দেশে ভাল ইংরেজী জানা একজন শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা যে কতটুকু তা পাবলিক পরীক্ষাগুলিতে ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল থেকেই সহজে বুঝা যায়।

আমাদের দেশে এর চাকরীর মর্যাদা এখনও মানুষের মনে অনেক উপরে। অনেক শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতে নিজেকে UPSC অফিসার হিসাবে দেখতে পছন্দ করে। যাদের টার্গেট UPSC, পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরি তারা সাধারণ কোন বিষয় উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নিতে পারে। এক্ষেত্রে, সাবজেক্টিভের তুলনায় অবজেক্টিভ বিষয় নির্বাচন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।

একটা সময় ছিল, যখন মা-বাবারা তাঁদের মেধাবী সন্তানকে ভবিষ্যতে ডাক্তার অথবা ইন্জিনিয়ার হিসাবে দেখতে পছন্দ করতেন। ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসার হলেও এই দুটি বিষয়ের মূল্যায়ণ কিন্তু এখনও কমে যায়নি। তবে, ইন্জিনিয়ারিং -এর বেশ কিছু নতুন শাখার বিস্তার হয়েছে এবং একটির তুলনায় আরেকটি শাখার গুরুত্বের তারতম্য হয়েছে।

ইন্জিনিয়ারিং অথবা বিজ্ঞান -এর নতুন যে বিষয়গুলি আজকাল বেশী চাকরীর ক্ষেত্রে তৈরী হচ্ছে তা হলো কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং, লেদার টেকনোলজি, টেলিকমিউনিকেশন, কমিউনিকেশন টেকনোলজি, সিরামিক টেকনোলজি, আরবান (নগর উন্নয়ন) ম্যানেজমেন্ট, জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কৃষিবিজ্ঞান প্রভৃতি।

আরও কিছু বিষয়, যা বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট চাহিদার সৃষ্টি করছে এবং সামনের দিন গুলিতেও করবে তার দিকে লক্ষ্য করা যেতে পারে। হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং, গনমাধ্যম ও সাংবাদিকতা, ফিল্ড এন্ড আনিমেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং প্রভৃতি অন্যতম। অনেকেই আজকাল এগুলির মধ্যে নিজের ঝোঁক অনুযায়ী কোন একটি বিষয় নিয়ে পড়াশুনা শেষ করে নিজেই কোন ফার্ম দিয়ে বসছেন।

এছাড়া আইন বিষয়ে পড়াশুনা শেষেও চাকরির পাশাপাশি পেশাগত চৰ্চা চালিয়ে যাওয়া যায়।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নেটওয়ার্ক ছাড়া চাকরি পাওয়া দুঃসাধ্য। তাই আপনাকে যোগাযোগমুখী হতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, একটা ভালো চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, যার জন্য আপনি উপযুক্ত। কিন্তু বিজ্ঞাপনটি আপনার দৃষ্টিগোচর হয়নি, সে ক্ষেত্রে আপনি চাকরির সুযোগটি হারাবেন। তাই চাকরির তথ্যগুলো পেতে গড়ে তুলুন নেটওয়ার্ক। এজন্য আপনি যে কাজগুলো করতে পারেন-

নিজের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করুন। সবার সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন। এটি ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক।

-পুরনো বন্ধুদের খোঁজখবর নিন। কেননা তাদের কাছে আপনি পেতে পারেন প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য।

-বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করুন।

-সাংগঠনিক যোগ্যতা বাড়াতে বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত হোন।

-ক্যারিয়ার রিলেটেড সভা-সমিতি ও জব ফেয়ারগুলোর খোঁজ রাখুন।

-চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর -কর্মশালায় অংশগ্রহণ করুন।

-বিভিন্ন করপোরেট হাউজের ওয়েবসাইট -ব্রাউজ করুন।

-অনুভূতি বা আইডিয়া প্রকাশের সময় আপনার -যোগাযোগ দক্ষতা কাজে লাগান।

What Is Career Education What Is Career Education What Is Career Education

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here