Srinivasa Ramanujan Jivani in Bengali – শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী

Srinivasa Ramanujan Jivani in Bengali - শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী
Srinivasa Ramanujan Jivani in Bengali - শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী

Srinivasa Ramanujan যিনি ই. ভি রামকৃষ্ণ নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় গণিতবিদ এবং শক্তি আইন তত্ত্বের একজন প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাকারী। তার জীবন সম্পর্কে জানতে আমাদের পোস্টটি পড়ুন।

Table of Contents

Srinivasa Ramanujan Jivani in Bengali – শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী

নামশ্রীনিবাস রামানুজন
পিতার নামশ্রীনিবাস আয়েঙ্গার
জন্মডিসেম্বর ২২, ১৮৮৭
জাতীয়তাভারতীয়
কর্মক্ষেত্রগণিতজ্ঞ
মাতৃশিক্ষায়তনকেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়
মৃত্যুএপ্রিল ২৬, ১৯২০

শ্রীনিবাস রামানুজন কে ছিলেন? Who is Srinivasa Ramanujan?

পৃথিবী বিখ্যাত গণিতবিদ ই.টি.বেল তাঁর বিখ্যাত বই Men of Math ematics গ্রন্থে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ হিসেবে যাঁকে সম্মান জানিয়েছেন সেই শ্রীনিবাস রামানুজনের জীবনকাহিনী বড় বিচিত্র। অবিশ্বাস্য গল্প-কাহিনীর যেন এক নায়ক তিনি।

শ্রীনিবাস রামানুজন র জন্ম: Srinivasa Ramanujan’s Birthday

দক্ষিণ ভারতের এডোর শহরে মামার বাড়িতে ১৮৮৭ খ্রিঃ রামানুজনের জন্ম। তাঁদের নিজের বাড়ি ছিল কুম্ভকোনমে।

শ্রীনিবাস রামানুজন র পিতামাতা: Srinivasa Ramanujan’s Parents

তাঁর বাবা শ্রীনিবাস আয়েঙ্গার ছিলেন এক কাপড়ের দোকানের সাধারণ কর্মচারী। অভাব অনটনের সংসার। লোকসংখ্যাও কম নয়। বাবা মা ও তিন ভাইবোনের সঙ্গে ঠাকুর্দা ঠাকুমা মিলিয়ে মোট সাতজন।

শ্রীনিবাস রামানুজন র স্কুল জীবন: School life of Srinivas Ramanujan

বাবার চাকরির সামান্য মাইনেতে এতগুলি মানুষের কোন রকমে গ্রাসাচ্ছাদনটুকু কুলিয়ে উঠত। তাই ছেলের পড়াশুনার বাড়তি খরচ মেটাবার জন্য শ্রীনিবাস চোখে অন্ধকার দেখতেন। হত দরিদ্র সংসারে নিত্য অনটনই হয়ে উঠেছিল বালক রামানুজনের অনুপ্রেরণা। বাবার খরচের বোঝা লাঘব করবার জন্য প্রাণপণ খেটে পড়াশুনা করে স্কুলের বৃত্তি পরীক্ষায় বসলেন।

শ্রীনিবাস রামানুজন প্রথম স্থান

পরিশ্রমের ফলও পেলেন হাতে হাতে। বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করলেন। ফলে স্কুলের বেতন অর্ধেক হয়ে গেল।

সহজাত প্রতিভার টানে শিশু বয়স থেকেই গণিতের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তিনি। সংখ্যা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে তিনি খুব ভালবাসতেন। সংখ্যা নানা ভাবে সাজিয়ে প্রশ্ন তৈরি করাটা তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল প্রিয় খেলা। প্রশ্ন তৈরি করতেন আবার নিজেই সেই প্রশ্নের সমাধান বার করতেন। অঙ্ক নিয়ে তাঁর এই খেলা তাঁর সহপাঠীদের কাছে ছিল বিষম বিস্ময়ের ব্যাপার।

অংক বিষয়ে তাঁর নিপুণতা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অংক বিষয়ে তাঁর নিপুণতা বাড়তে থাকে। সহপাঠীদের মধ্যে তো বটেই গোটা স্কুলেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন অঙ্কের সেরা ছাত্র। ওপরের ক্লাশের ছেলেরা প্রায়ই তাঁর কাছে এসে অঙ্ক শিখত। তাঁর এমনই মেধা ছিল যে বইয়ের উদাহরণ একবার দেখেই তিনি সমস্ত অঙ্ক ঠিক ঠিক করে ফেলতে পারতেন।

আরও পড়ুন- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী

স্কুলের পড়া শেষ হবার আগেই একবার রামানুজনের হাতে আসে একটি অংকের বই। A synopsis of Elementary Results in Pure and Applied Mathematics বইটি ছিল কলেজের ছেলেদের পাঠ্য। কজন কলেজের ছাত্র তাঁদের বাড়িতে ভাড়া থাকত। এক ইংরাজ গণিতবিদের লেখা বইটি তিনি তাদের কাছেই পেয়েছিলেন।

বইটিতে কয়েক হাজার জটিল গণিতের প্রশ্ন দেওয়া ছিল। দুচারটি সমস্যার সাহায্য-সূত্র ছাড়া কোন সমাধান বইটিতে ছিল না।

আগ্রহ নিয়ে বইটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে তিনি দেখলেন, বইয়ের বেশির ভাগ অঙ্কই তাঁর অজানা। নিয়ম পদ্ধতিও কোথাও দেওয়া নেই। স্বভাবতঃই তিনি বইটির প্রতি আকৃষ্ট হলেন এবং ডুবে গেলেন সমস্যাগুলির মধ্যে।

গণিত সূত্র উদ্ভাবন

অচেনা-অজানা অঙ্ক নিয়েই কেটে যেতে লাগল সময়। মাথা খাটিয়ে নিজেই বার করলেন সমাধান সূত্র এবং প্রতিটি সূত্রই ছিল নির্ভুল। এখানে বলবার বিষয় এই যে, এই সব অঙ্কের সব সমাধান ইতিপূর্বে ইউরোপীয় গণিতজ্ঞেরা উদ্ভাবন করেছিলেন। সামান্য একজন স্কুলপড়ুয়া রামানুজন সেই সব সূত্র উদ্ভাবন করে ফেললেন।

শ্রীনিবাস রামানুজন র কলেজ জীবন: College life of Srinivas Ramanujan

এভাবেই দিনে দিনে গণিতের মধ্যে আত্মমগ্ন হয়ে উঠলেন কিশোর রামানুজন। পনেরো বছর বয়সে এন্ট্রন্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ভর্তি হলেন কুম্ভকোনমের কলেজে।

সেই সময়ের ইন্টারমেডিয়েট ক্লাশে তাঁর পাঠ্যবিষয় ছিল অঙ্ক, সাহিত্য, ইতিহাস, শরীরবিদ্যা ও সংস্কৃত ভাষা।

প্রিয় বিষয় অঙ্ক

কলেজে ভর্তি হবার পর প্রিয় বিষয় অঙ্ক নিয়েই মেতে রইলেন রামানুজন। অন্য বিষয়গুলোর পাতা উল্টে দেখারও সময় পান না তিনি। ফল হল, প্রথম বার্ষিক পরীক্ষায় পাশ করতে পারলেন না।

ম্যাট্রিকে ভাল ফল করার জন্য বৃত্তি পেয়েছিলেন। আর কলেজের প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় পাশ করতে না পারায় সেই বৃত্তি বন্ধ হয়ে গেল।

শ্রীনিবাস রামানুজন টিউশানি শুরু করেন

দরিদ্র ছেলের এই ক্ষতি বড় সামান্য নয়। রামানুজন এতে এতটাই হতাশ হয়ে পড়লেন যে, কয়েক মাস কলেজে যাবার মতো মনোবল রইল না। ক্রমাগত অনুপস্থিতির জন্য বছরের শেষ পরীক্ষাতে বসার অনুমতিও পেলেন না।

তিনি এর পর চলে এলেন মাদ্রাজে। টিউশানি জোগাড় করলেন। এক কলেজে ভর্তি হলেন দ্বিতীয় বার্ষিক শ্রেণীতে। সামান্য টিউশানির টাকা কটিই সম্বল, তা দিয়ে পড়াশুনা ও খাওয়া খরচ চালাতে হত। বেশির ভাগ দিনই কাটত উপবাসে। শরীর ভেঙ্গে পড়ল অল্প দিনেই। ফল হল অসুস্থতার জন্য দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে পারলেন না।

আরও পড়ুন- সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় জীবনী

কেবল মাত্র ছেলে পড়ানোর টাকা সম্বল করে মাদ্রাজে পড়াশুনা চালানো যাবে না বুঝতে পেরে এরপরে তিনি আবার বাড়িতে ফিরে এলেন। আগের কলেজ থেকেই প্রাইভেটে পরীক্ষা দিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় পরীক্ষায় পাস করতে পারলেন না।

কলেজের পরীক্ষায় পাস করতে পারলেন না বটে, কিন্তু অঙ্কশাস্ত্রে তাঁর বুৎপত্তি ছিল অসাধারণ। রামানুজনের ধ্যানজ্ঞান ছিল অঙ্ক নিয়ে। দিনরাত সারাক্ষণই অঙ্ক কষছেন।

এদিকে সংসারের অবস্থা টলমল। ছেলে পাস করতে পারলে আয় রোজগারের পথ হত। তা না হওয়ায় বাবা-মাও হতাশ হয়ে পড়লেন। ছেলের দিনরাত অঙ্ক নিয়ে পড়ে থাকা তাঁদের কাছে মূল্যহীন হয়ে গেল।

এই সময় সংসারের চাপে রামানুজন আবার ছাত্র পড়ানো শুরু করলেন। কিন্তু তাতেও মন বসাতে পারলেন না। সারাক্ষণ অঙ্কের সব জটিল সমস্যা মাথায় ঘোরে আর তাই নিয়েই অন্যমনা হয়ে থাকেন।

শ্রীনিবাস রামানুজন র বিবাহ জীবন: Married Life of Srinivasa Ramanujan

এর মধ্যেই সেই কালের সামাজিক রীতি মেনে বাবা-মা ও পরিজনদের চাপে পড়ে তাঁকে বিয়ে করতে হল। তখন সবে তিনি ২২ বছরে পা দিয়েছেন। স্ত্রীর বয়স মাত্র নয়। তাঁর নাম জানকী।

অভাবের সংসারে এবারে আরও একজন সদস্য বাড়ল। স্বভাবতঃই সাংসারিক খরচ-খরচার ব্যাপারে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন রামানুজন। চাকরির সন্ধানে চলে গেলেন মাদ্রাজে। পরিচিত একজনের আশ্রয়ে থেকে চাকরির চেষ্টা করতে লাগলেন।

গণিত সোসাইটির সম্পাদক রামচন্দ্র রাও সঙ্গে দেখা

এই সময়ে একদিন দেখা হয়ে গেল স্কুলের বন্ধু রাজা গোপালাচারীর সঙ্গে। তিনিই বন্ধুকে পাকড়াও করে নিয়ে গেলেন গণিত সোসাইটির সম্পাদক রামচন্দ্র রাও-এর কাছে।

প্রথম সাক্ষাতেই বিচক্ষণ রামচন্দ্র রাও রামানুজনের প্রতিভার পরিচয় পেয়ে গেলেন। তিনি নানা ভাবে তাঁকে সাহায্যের চেষ্টা করতে লাগলেন। মাসিক পাঁচশ টাকা মাসোহারার ব্যবস্থাও করলেন তাঁর জন্য।

শ্রীনিবাস রামানুজন র কর্ম জীবন: Srinivasa Ramanujan’s Work Life

অকূলে কূল পেলেন রামানুজন। রামচন্দ্র রাওকে তিনি আঁকড়ে রইলেন এবং তাঁরই উৎসাহে অঙ্ক বিষয়ে লেখালিখিও শুরু করলেন।

শ্রীনিবাস রামানুজন র প্রথম পত্রিকা

১৯১১ খ্রিঃ গোড়ার দিকেই ইন্ডিয়ান ম্যাথামেটিক্যাল সোসাইটির পত্রিকায় প্রথমে তাঁর কয়েকটি ছোট্ট লেখা প্রকাশিত হল। কয়েক মাস পরেই প্রকাশিত হল প্রথম প্রবন্ধ ‘Some Properties of Bernoulli’s numbers‘ ।

এর কিছু দিন পরেই রামচন্দ্র রাওয়ের যোগাযোগে পোর্টট্রাস্টের অফিসে একটি কেরানীর চাকরি জুটে গেল তাঁর। ২৫ টাকা মাইনের প্রথম চাকরিটি রামানুজন পেলেন তাঁর চব্বিশ বছর বয়সে।

এবারে আর অন্যের অনুগ্রহ নয়, পরিশ্রমের বিনিময়ে গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা হল। অনেকটাই দুর্ভাবনা মুক্ত হলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ক্রিস্টোফার কলম্বাস জীবনী

কিছুদিনের মধ্যেই একটা বাড়ি ভাড়া করে বাড়ি থেকে মা ঠাকুমা আর স্ত্রী জানকীকে নিজের কাছে নিয়ে এলেন। মাইনের সামান্য টাকা দিয়েই সকলের ভরণপোষণ চলতে লাগল।

এদিকে রামানুজনের নিজের খরচও কিছু কম নয়। অঙ্ক কষার জন্য প্রতি মাসে কিনতে হয় প্রায় চার রিম করে কাগজ। সেই খরচ কমাবার জন্য কিনলেন শ্লেট। তাতেই অঙ্ক কষেন আবার মুছে ফেলেন। শুধু ফলটা টুকে রাখেন কাগজে।

আরও পড়ুন- অনর দ্য বালজাক জীবনী

অনবরত শ্লেটে হাত ঘষে ঘষে হাতের চামড়া ক্ষয়ে যেতে লাগল। তখন অফিস থেকে ফেলে দেওয়া বাতিল কাগজ কুড়িয়ে এনে তাতেই অঙ্ক করতে লাগলেন।

সেই সময় তিনি এমন কঠিন কঠিন অঙ্ক কষতেন যে তা বোঝার মতো মানুষ এদেশে কেউ ছিল না। তিনি নিজেই ছিলেন নিজের শিক্ষক নির্দেশক। এই সময় থেকেই মাঝে মাঝে তাঁর লেখা ইন্ডিয়ান ম্যাথামেটিক্যাল সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত হতে থাকে। এর বেশি স্বীকৃতি তিনি দেশের মানুষের কাছে থেকে সেই সময় পাননি।

নতুন নতুন ফর্মূলা উদ্ভাবন করেছিলেন রামানুজন। দেশবিদেশের গুণী মানুষদের নজরে আনার জন্য তিনি এবারে বিদেশের গণিতজ্ঞদের কাছে চিঠি লিখতে আরম্ভ করলেন। তাঁর উদ্ভাবিত ফর্মুলার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানতে চাইতেন।

কিন্তু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিবিহীন, পরিচয়হীন মানুষের গুণের মূল্য দেবার লোক চিরকালই পৃথিবীতে নগণ্য। কাজেই তাঁর কোন চিঠিরই উত্তর কারো কাছ থেকে আসত না। হতাশ হলেও ভেঙ্গে পড়েননি রামানুজন। তাঁর চিঠিচাপাটি চলতেই লাগল।

কথায় আছে যে সয় সে রয়। ধৈর্যই উন্নতির সোপান। ধৈর্যের ফল পেতেও বিলম্ব হল না।

রামানুজন চিঠি পাঠিয়েছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের

কয়েক পাতা ফর্মুলা সহ একটি চিঠি রামানুজন পাঠিয়েছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান অধ্যাপক মিঃ জি এইচ হার্ডির কাছে। হার্ডি নিজেও ছিলেন দেশ-বিদেশ খ্যাত বিশিষ্ট গণিতজ্ঞ। বয়সে নিতান্তই তরুণ।

প্রমাণ ছাড়া ফর্মূলাগুলো পেয়ে প্রথমে তিনি অবজ্ঞা ভরেই সেগুলো সরিয়ে রেখেছিলেন। পরে কৌতূহলবশতঃ নিজের সহকারী মিঃ লিটলউডকে সঙ্গে নিয়ে বসলেন ফর্মূলা প্রমাণ করতে।

অবিলম্বেই চমৎকৃত হলেন দুই গণিতবিশেষজ্ঞ। অজ্ঞাত পরিচয় এক কালো মানুষের পাঠানো প্রতিটি ফর্মুলাই নির্ভুল প্রমাণিত হল। কেবল তাই নয়, তাঁরা লক্ষ্য করলেন অঙ্ক নিয়ে ইতিপূর্বে ইউরোপের গণিতজ্ঞরাও এমন সঠিক ও উন্নত পর্যায়ের কাজ করতে পারেননি।

গুণগ্রাহী হার্ডি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকৃতি জানালেন তরুণ গণিতবিশেষজ্ঞ রামানুজনকে। একজন সাধারণ পরিবারের ডিগ্রিহীন হিন্দু তরুণের অসাধারণ মেধার পরিচয় পেয়ে অভিভূত হার্ডি তাঁকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ হিসেবে ঘোষণা করতে দ্বিধা করলেন না। এই সূত্রে দেশ-বিদেশে ভারতীয় গণিতজ্ঞ রামানুজনের নাম ছড়িয়ে পড়তে বিলম্ব হল না।

পৃথিবীর মানুষের সামনে অধ্যাপক হার্ডিই উপযুক্ত মর্যাদার সঙ্গে রামানুজনকে স্বীকৃতিসহ উপস্থিত করেছিলেন। এ কাজ যদি সেদিন তিনি না করতেন তাহলে হয়তো চিরদিনের জন্যই হারিয়ে যেত গণিত-ইতিহাসের এক অনন্যসাধারণ প্রতিভা। নীরব এই জ্ঞানতাপসকে কেউই জানতে চিনতে পারত না।

রামানুজন সম্পর্কে অধ্যাপক হার্ডি বলেছিলেন, দরিদ্র এক হিন্দু তরুণ তাঁর অসাধারণ মেধা নিয়ে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ পন্ডিতদের সম্মুখীন হয়েছেন।

শ্রীনিবাস রামানুজন র গবেষণার: Research by Srinivasa Ramanujan

এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত পত্রালাপ চলল রামানুজনের। রামানুজন তাঁকে লিখে পাঠান নতুন নতুন ফর্মূলা।

আর হার্ডি করেন সেগুলোর মূল্যায়ন এবং তাঁরই যোগাযোগে সেসব প্রকাশিত হয় ইংলন্ডের বিখ্যাত পত্রপত্রিকায়।

নিদারুণ আর্থিক অস্বচ্ছলতার মধ্যে থেকেও রামানুজন নিয়মিত তাঁর গবেষণার কাজ করে চলেছিলেন।

তাঁর অসুবিধার কথা উপলব্ধি করে কিছুদিনের মধ্যেই হার্ডি তাঁর কথা জানিয়ে চিঠি লিখলেন ভারতের শিক্ষা বিভাগে। মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও এই বিষয়ে যোগাযোগ করলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত তাঁর স্বতঃপ্রবৃত্ত ঐকান্তিক চেষ্টার ফলেই মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার জন্য রামানুজনকে দুবছরের জন্য মাসিক পঁচাত্তর টাকার বৃত্তি মঞ্জুর করলেন।

সহায় সম্বলহীন তরুণ গবেষকের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য ছিল অপরিহার্য। তাই এই অভাবিত সহযোগিতা রামানুজনের কাছে হল ঈশ্বরের আশীর্বাদের মতো। আনন্দে আত্মহারা হয়ে তিনি যথাসময়েই হার্ডিকে জানিয়ে দিলেন, এতদিনে তিনি আর্থিক দুশ্চিন্তার হাত থেকে মুক্ত হয়েছেন। এবারে ভারমুক্ত মনে গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারবেন।

রামানুজনের ব্যাপারে আরো একটি গুরুতর বিষয়েরও দায়িত্ব অবিলম্বে নিজের হাতে তুলে নিলেন অধ্যাপক হার্ডি।

তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, আধুনিক গণিতের প্রথাগত নিয়ম পদ্ধতি বিষয়ে রামানুজন সম্পূর্ণই অজ্ঞ। প্রথাগত শিক্ষা না পাওয়ার জন্য তাঁর নিজস্ব তথ্য প্রমাণ সঠিক পদ্ধতিতে বিদগ্ধ মহলে উপস্থাপন করতে পারবেন না।

আধুনিক গণিতের রীতি-পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হবার জন্য তাঁর উপযুক্ত শিক্ষণ প্রয়োজন।

অধ্যাপক হার্ডি তাঁর সমকক্ষ কয়েকজন পন্ডিতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে রামানুজনকে চিঠি লিখে জানালেন ইংলন্ডে আসার জন্য। তাহলে নিজেই তাঁর শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

চিঠি পেয়ে আনন্দিত হলেও তাঁদের সামাজিক অবস্থার কথা চিন্তা করে রামানুজন দুর্ভাবনাগ্রস্ত হলেন।

সেই কালে দক্ষিণ ভারতের হিন্দু সমাজ ছিল নানা কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে বিশ্বাসী। জাতপাতের নানা বিধি-নিষেধের গন্ডিতে আবদ্ধ ছিল সামাজিক ব্যবস্থা। সাগর পার হয়ে বিদেশ যাওয়ার অর্থই ছিল চিরদিনের মতো জাত খোয়ানো।

গোঁড়া ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান রামানুজন। তাঁর পক্ষে সামাজিক এই বিধি নিষেধ লঙ্ঘন করা ছিল অসম্ভব। তাঁর বিদেশ যাত্রার বিষয়ে পরিবারের কারোরই সম্মতি পেলেন না তিনি।

কোন কিছু গোপন না করে অধ্যাপক হার্ডিকে চিঠি লিখে তিনি সব কথা জানালেন।

কয়েক মাস পরেই অধ্যাপক হার্ডির বন্ধু এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক মিঃ নেভিল এলেন ভারতবর্ষে। মাদ্রাজে পৌঁছে তিনি দেখা করলেন রামানুজনের সঙ্গে এবং বোঝালেন প্রতিভার পূর্ণ বিকাশের জন্যই তাঁর ইংলন্ডে যাওয়া প্রয়োজন।

রামানুজনের ইংলন্ড যাত্রা

গণিতশাস্ত্রে উৎসর্গীকৃত প্রাণ রামানুজনের পক্ষে এবারে আর পারিবারিক ও সামাজিক বাধার কথা চিন্তা করে নতুন জগতের আহ্বানকে অস্বীকার করা সম্ভব হল না। মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরাও তাঁকে ইংলন্ড যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করলেন।

শেষ পর্যন্ত সমস্ত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সরিয়ে রেখে তিনি মাকে তাঁর দুঃখের কথা জানালেন। এত বড় সুযোগ হেলায় হারালে তাঁর এতদিনের সাধনা সমস্ত ব্যর্থ হয়ে যাবে।

রামানুজনের মা ছিলেন অতি সাধারণ এক মহিলা। আজন্ম তিনি মানুষ হয়েছেন পারিবারিক ধর্মীয় নিয়ম-কানুনের মধ্যে। লেখাপড়াও জানতেন না। প্রতিভাধর সন্তানের জটিল গণিতের তত্ত্ব, তার গুরুত্ব বিষয়ে অনুধাবন করাও ছিল তাঁর পক্ষে অসম্ভব।

কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে তিনি ছিলেন মা। তাই সন্তানের বুকের ব্যথা উপলব্ধি করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হল না। সামাজিক সমস্ত বাধানিষেধকে উপেক্ষা করে তিনি রামানুজনকে বিদেশযাত্রার অনুমতি দিলেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি পরিবারের লোকজনদের জানিয়ে দিলেন, স্বপ্নে দেবীর আদেশ পেয়েছেন, রামানুজন বিদেশ গেলে সকলের কল্যাণ হবে।

ইতিমধ্যে অধ্যাপক নেভিলের ব্যবস্থাপনায় মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় রামানুজনের বিদেশ যাত্রার প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করল। কেবল তাই নয় তাঁর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার্ষিক ২৫০ পাউন্ড বৃত্তিরও ব্যবস্থা হল।

তরুণ রামানুজন সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ১৯১৪ খ্রিঃ ১৭ মার্চ ইংলন্ড রওনা হলেন।

ইউরোপের মাটিতে যখন বেজে উঠেছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা, রামানুজন সেই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত হলেন ইংলন্ডে। বহু বিজ্ঞানীই এই সময় প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধের কাজে জড়িয়ে পড়েছেন।

অধ্যাপক রাসেল ও অধ্যাপক হার্ডিসহ আরও মুষ্টিমেয় সংখ্যক বিজ্ঞানী ছিলেন বিধ্বংসী যুদ্ধের বিপক্ষে। রামানুজন নিজেও ঘৃণা করতেন যুদ্ধকে। তাঁরা নিয়োজিত রইলেন নিজের কাজ নিয়েই।

অধ্যাপক হার্ডি নিজেই রামানুজনের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। বাইরের জগতের কোন বিশৃঙ্খলাই যাতে তাঁর মনকে স্পর্শ করতে না পারে সেভাবেই তিনি দায়িত্বশীল অভিভাবকের মতো আগলে রাখতেন ভিন দেশী প্রতিভাধর তরুণটিকে।

গণিতের তত্ত্বের সমস্যা নিয়েই ডুবে রইলেন রামানুজন। এই সময়ে এমনও দিন গেছে, যখন তিনি আট থেকে দশটি দুরূহ ফর্মুলা উদ্ভাবন করতেন। তাঁর পারদর্শিতা দেখে বিস্মিত হতেন অধ্যাপক হার্ডি

১৯১৪ খ্রিঃ থেকে ১৯১৮ খ্রিঃ পর্যন্ত রামানুজন কেমব্রিজে ছিলেন। সামান্য এই কয়েক বছরের মধ্যে তিনি যে কাজ করেছিলেন, সারাজীবনে একজন গণিতজ্ঞ তার অর্ধেকও করতে পারে না। দেশ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশে এসে পড়েছিলেন রামানুজন। সাগর পার হয়ে এলেও আজন্ম পালিত প্রাত্যহিক জীবনের অভ্যাস ও আচার-ব্যবহার ত্যাগ করতে পারেননি।

ইংলন্ডের কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও তিনি নিয়মিত পূজাপাঠ করতেন, উপবাস করতেন। খাওয়া-দাওয়ার বাছবিচারও মেনে চলতেন। অনেক কিছুই তিনি খেতেন না। ফলে ক্রমেই তাঁর শরীর ভেঙ্গে পড়তে লাগল।

জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অঙ্কবিদের জীবন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন হার্ডি। তিনি বিস্তারিত জানিয়ে চিঠি লিখলেন মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ইতিমধ্যে লণ্ডনের রয়াল সোসাইটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন রামানুজন। তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে। মাদ্রাজের পণ্ডিতমহলও উচ্ছ্বসিত স্বদেশের বিজ্ঞানীর গৌরবে। মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় অবিলম্বে রামানুজনের জন্য বাৎসরিক ২৫০ পাউন্ডের বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিল।

আরও পড়ুন- জেমস রবার্ট ওপেনহাইমার জীবনী

দুঃখের মধ্যে মানুষ হয়েছেন রামানুজন। তাই দুঃখীর দুঃখ তিনি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতেন। সাফল্যের শীর্ষে আরোহণ করেও তাঁর জীবনযাত্রার কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। পাণ্ডিত্যের অহঙ্কার তাঁর সরল সৎজীবনকে স্পর্শ করতে পারেনি।

মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বদান্যতার কথা জানতে পেরে তিনি কর্তৃপক্ষকে লিখলেন, “আমার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আপনারা মঞ্জুর করেছেন। উদ্বৃত্ত অর্থ গরীব-দুঃখী ছেলেমেয়েদের শিক্ষার প্রয়োজনে ব্যয়িত হতে পারে।”

বিদেশের মাটিতে আরো সম্মান অবশিষ্ট ছিল। দেশে ফেরার কয়েকমাস আগে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় কেমব্রিজ ট্রিনিটি কলেজ তাঁকে ফেলো নির্বাচিত করল। রামানুজনের আগে অপর কোনও ভারতীয় এই দুর্লভ সম্মান পাননি।

রামানুজনের দেশে ফেরা

যথাসময়ে জাহাজে চেপে স্বদেশের পথে রওনা হলেন রামানুজন। ১৯১৯ খ্রিঃ মার্চের শেষদিকে বোম্বাই এসে পৌঁছলেন। দেশের বড় বড় ডাক্তার তাঁর চিকিৎসা করতে লাগলেন। কিন্তু সেই দিনে

কঠিন যক্ষ্মা রোগ ছিল দুরারোগ্য ব্যাধি। তাই চিকিৎসায় কোন ফল দেখা গেল না।

দিনে দিনে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চললেন দেশের এক শ্রেষ্ঠ সন্তান। এই অবস্থাতেও রামানুজন গুরুত্বপূর্ণ এমন কিছু কাজ সম্পূর্ণ করেছেন, যা মানুষ সারাজীবনের চেষ্টাতেও করে উঠতে পারে না।

একদিন যে মানুষটি দেশে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁর জন্য এবারে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্কের অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পদে যোগ দেবার অবস্থায় তিনি আর তখন ছিলেন না।

শোনা যায় আজন্ম ঈশ্বরবিশ্বাসী রামানুজন জীবনের অন্তিম লগ্নে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছিলেন। এর পেছনে তাঁর ইউরোপের শিক্ষার প্রভাব কতকটা দায়ী বলে মনে করেন অনেকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলাও তাঁর মনে ঈশ্বর সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে থাকতে পারে।

শ্রীনিবাস রামানুজন র মৃত্যু: Rash Behari Bose’s Death

অবশেষে এগিয়ে এল ১৯২০ খ্রিঃ ২৬ এপ্রিল। এই দিনে জীবনের সমস্ত হিসাব নিকাশ চুকিয়ে অমরলোকে যাত্রা করলেন মহান গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজন।

শ্রীনিবাস রামানুজন র গণিতবিদ্যায় অবদান

মাত্র ৩২ বছরের স্বল্প পরিসর জীবনে প্রথাগত শিক্ষা না পেয়েও ভারতের এই গণিতবিদ যে অত্যাশ্চর্য অবদান রেখে গেছেন, তা তাঁকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের মধ্যে স্থান করে দিয়েছে।

শ্রীনিবাস রামানুজন বিশ্বের এক বিস্ময়কর গণিত প্রতিভা

সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ হওয়ার উপযুক্ত প্রতিভা নিয়েই জন্মেছিলেন রামানুজন। কিন্তু পরিবার ও দেশের দুঃখজনক পরিবেশ ও উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে তাঁর প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এই হতভাগ্য দেশে এমনি কত প্রতিভা যে অকালে অজ্ঞাতে ঝরে যায়, কে তার হিসাব রাখে।

রামানুজন যে সব ফর্মূলা উদ্ভাবন করেছিলেন, তার অধিকাংশেরই কোনও প্রমাণ তিনি রেখে যাননি। তবুও তাঁর সমস্ত ফর্মুলা সংগ্রহ করে দুইখণ্ডে প্রকাশ করা হয় তাঁর মৃত্যুর ৩৭ বছর পরে।

আধুনিক গণিতজ্ঞ পন্ডিতগণের বিস্ময় জাগছে, যখন তাঁরা দেখেন তাঁদের আবিষ্কৃত তত্ত্ব বহু আগেই রামানুজনের গোচরে এসেছে।

পাই-এর মান 1.75 কোটি ঘর দশমিক পর্যন্ত নির্ণয় করার জন্য একটি কম্পিউটার আলাগোরিজম লেখেন বিখ্যাত গণিতবিদ উইলিয়ম গোসপার ১৯৪৫ খ্রিঃ। পরে যখন তিনি দেখলেন এই কাজটি অনেকদিন আগেই রামানুজন করে রেখেছেন, তখন অপরিসীম শ্রদ্ধায় বলে ওঠেন, ‘যিনি আমাদের সাধনার সুফল কবরের তলা থেকে হাত বাড়িয়ে কেড়ে নেন, তাঁকে ভালবাসা বড় কঠিন।

বস্তুতঃ শ্রীনিবাস রামানুজন বিশ্বের এক বিস্ময়কর গণিত প্রতিভা।

রামানুজ ভারতের কোন প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন?

দক্ষিণ ভারতের এডোর শহরে মামার বাড়িতে ১৮৮৭ খ্রিঃ রামানুজনের জন্ম। তাঁদের নিজের বাড়ি ছিল কুম্ভকোনমে।

শ্রীনিবাস রামানুজন কেন বিখ্যাত?

শ্রীনিবাস রামানুজন একজন ভারতীয় গণিতবিদ।

কোন চলচ্চিত্রটি গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজন দ্বারা অনুপ্রাণিত?

সংখ্যার তত্ত্ব, ভগ্নাংশের সম্পত্তির আবিষ্কার এবং অসীম সিরিজে তাঁর অবদান শ্রীনিবাস রামানুজনের উপর সিনেমা।
দ্য ম্যান যিনি অনন্ত জানতেন (2015) এটি ভারতীয় গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজন সম্পর্কে একটি ব্রিটিশ জীবনীমূলক নাটক চলচ্চিত্র।
রবার্ট কানিগেলের লেখা একই নামের বইয়ের উপর ভিত্তি করে। অভিনয়ে দেব প্যাটেল, জেরেমি আয়রনস, দেবিকা ভিসে প্রমুখ। ম্যাথু ব্রাউন পরিচালিত। কোবি ব্রাউনের সঙ্গীত। অ্যামাজন প্রাইমে উপলব্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here