Jivaka Biography in Bengali – চিকিৎসক জীবক জীবনী

Jivaka Biography in Bengali – চিকিৎসক জীবক জীবনী
Jivaka Biography in Bengali – চিকিৎসক জীবক জীবনী

আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি মহান ব্যক্তিদের জীবনী সমগ্র। মহান ব্যক্তি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁদের জীবনের ক্ষুদ্রতম অংশগুলি আমাদের জন্য শিক্ষামূলক হতে পারে। বর্তমানে আমরা এই মহান ব্যক্তিদের ভুলতে বসেছি। যাঁরা যুগ যুগ ধরে তাদের কর্ম ও খ্যাতির মধ্য দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এবং জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্যের জগতে এক অনন্য অবদান রেখেছেন এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠ গুণাবলী, চরিত্র দ্বারা দেশ ও জাতির গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। সেইসব মহান ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম চিকিৎসা বিজ্ঞানী জীবক (Jivaka) -এর সমগ্র জীবনী সম্পর্কে এখানে জানব।

Jivaka Biography in Bengali – চিকিৎসক জীবক জীবনী

নামজীবক
জন্মখ্রিস্টপূর্ব ৫৪০ সনে
পিতা
মাতা
জন্মস্থানরাজগৃহ, মগধ
জাতীয়তামগধ
পেশাচিকিৎসক, বৈদ্য
মৃত্যুরাজগৃহ, মগধ

জীবক কে ছিলেন? Who is Jivaka?

মানুষের নীতিবোধ, মানবিকতা ও দক্ষতার উৎকর্ষ সাধনের যদি কোন সার্থক মাধ্যম থেকে থাকে তবে তা হল চিকিৎসাবিদ্যা। মানবসেবার এমন সহজ ও সম্ভাব্য পথ দ্বিতীয় নেই।

প্রাচীন ভারতে যে কজন প্রতিভাধর চিকিৎসা-বিজ্ঞানী নিজেদের কর্মকৃতিত্বের বলে দেশ-কাল-পাত্রের ঊর্ধ্বে চিরকালের শ্রদ্ধা লাভ করেছেন তাঁদের মধ্যে জীবক বিশিষ্টতম। তিনি ছিলেন মহান মানবত্রাতা বুদ্ধের সমসাময়িক। জীবক সম্পর্কে বলতে গিয়ে বুদ্ধদেব নিজ শিষ্যদের বলতেন, ‘জীবককে তোমরা সামান্য ভেব না। তিনি এক ছদ্মবেশী মহাত্মা। এই জীবনেই পান করেছেন অমরত্বের অমৃত।

জীবকের নির্লোভ জীবন ও তাঁর কর্মদক্ষতাকে শ্রদ্ধা জানাবার কথা বুদ্ধদেব বারবার বলতেন তাঁর শিষ্যদের।

সমকালীন ভারতের সাধারণ মানুষ থেকে রাজরাজড়া পর্যন্ত সকলেই পঞ্চমুখে প্রশংসা করেছেন, মর্যাদা জানিয়েছেন জীবকের অলোকসামান্য চিকিৎসা প্রতিভাকে।

বুদ্ধের মহাজীবনের আলোয় আলোকিত ছিল জীবকের জীবন ও কর্ম। তাই বৌদ্ধগ্রন্থকারেরা তাঁর জীবনের অনেক চমকপ্রদ তথ্য লিপিবদ্ধ করে গেছেন। বস্তুতঃ প্রাচীন ভারতের অপর কোন বিজ্ঞানীর জীবন সম্পর্কেই এমন স্পষ্ট তথ্যাদি জানা যায় না।

জীবক এর জন্ম: Jivaka’s Birthday

তবে তাঁর জন্ম সালটি নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ। অনুমান করা হয় খ্রিস্টের জন্মের ৫৭০ বছর পূর্বে জীবকের জন্ম হয়েছিল।

জীবক এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Jivaka’s Parents And Birth Place

বর্তমানে উত্তর ভারতের যে সহরটির নাম রাজগীর, প্রাচীনকালে তার পরিচিতি ছিল রাজগৃহ নামে। এই রাজগৃহ ছিল মগধ সাম্রাজ্যের রাজধানী। সম্রাট বিম্বিসারের রাজত্বকালে এখানেই সলাবতী নামের এক নর্তকীর গর্ভে জন্ম হয়েছিল জীবকের। বিলাসিনী মা সদ্যজাত শিশুপুত্রকে এক জঙ্গলে ফেলে এসেছিলেন।

কিন্তু মাতা কর্তৃক পরিত্যক্ত হলেও কয়েকজন পথিকের অনুগ্রহে পরিচয়হীন শিশুটির প্রাণরক্ষা হয়েছিল।

জঙ্গল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তারা নিয়ে যায় এক চিকিৎসকের কাছে। তাঁর দয়া ও যত্নে শিশুটির জীবন রক্ষা পায়।

জীবক এর ছেলেবেলা: Jivaka’s Childhood

কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটির সংবাদ পেয়ে রাজ অভয় কৌতূহল বশে এসেছিলেন দেখতে। ফিরে যান তাকে পরম স্নেহে বুকে তুলে নিয়ে। যুবরাজ অভয়ের কাছেই প্রতিপালিত হতে থাকে সেই শিশু। তার নামকরণ তিনি করেন জীবক কুমার ভঞ্চ।

এই নামের তাৎপর্য হল, মৃত্যুর মুখ থেকে জীবন ফিরে পেয়েছে বলে জীবক। আর রাজকুমার কর্তৃক প্রতিপালিত বলে কুমার ভক্ক।

রাজ পরিবারেই বড় হয়ে ওঠেন জীবক। একসময় নিজের জন্ম ইতিহাসও তাঁর অজ্ঞাত থাকে না। এক চিকিৎসকের চিকিৎসা গুণে তাঁর জীবন রক্ষা পেয়েছিল। তাই তিনি কৈশোরেই সঙ্কল্প নেন, জন্ম নয়, কর্মই হবে তাঁর পরিচয়। চিকিৎসাবিদ্যাই হবে তাঁর জীবনের পথ। মানুষের সেবাতেই নিয়োজিত করবেন জীবন।

জীবক এর শিক্ষাজীবন: Jivaka’s Educational Life

সেই কালে তক্ষশীলা ছিল জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার শ্রেষ্ঠ পীঠস্থান। সেখানে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের কাছে চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষা করবার সঙ্কল্প নিয়ে জীবক একদিন তক্ষশীলায় রওনা হলেন।

কাউকে কিছু না জানিয়ে বহু মাসের পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়ে তক্ষশীলায় এসে তিনি এক চিকিৎসা বিজ্ঞানীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন।

বৌদ্ধ গ্রন্থকাররা জানিয়েছেন, জীবকের গুরু ছিলেন তৎকালের জগদ্বিখ্যাত চিকিৎসক। দেশ-বিদেশের শত শত ছাত্র তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করত। সাত বৎসব চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করে গুরুর আশীর্বাদ নিয়ে রাজগৃহের পথে যাত্রা করেন জীবক।

বর্তমান উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদ জেলায় একটি অঞ্চলের নাম ছিল সাকেত। বাড়ি ফেরার পথে সেই সাকেতে পৌঁছলে, এমন একটি ঘটনা ঘটে যার ফলে চিকিৎসক হিসেবে জীবকের নাম রাতারাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

সাকেত শহরের এক ধনী সওদাগরের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কঠিন রোগে শয্যাশায়ী ছিলেন। দেশ বিদেশের বহু বৈদ্য তাঁর চিকিৎসা করেছেন কিন্তু রুগীর মাথার অসুখ কেউ ভাল করতে পারেন নি। অসুস্থ স্ত্রীর জন্য চরম অশান্তির মধ্যে দিন কাটছিল সেই সওদাগরের।

পথ চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে পথের পাশে এক গাছতলায় বসে বিশ্রাম করছিলেন জাতক। ঘটনাচক্রে সেই পথেই যাচ্ছিলেন সেই সওদাগর। দিব্যকান্তি যুবক জীবককে দেখে কৌতূহলী হয়ে তিনি তাঁর পরিচয় জানতে চান। সদ্য চিকিৎসাশাস্ত্র শিক্ষা সমাপ্ত করে বাড়ি ফিরে চলেছেন জানতে পেরে, তিনি জীবকে তাঁর দুঃখের কথা জানিয়ে অনুরোধ করেন স্ত্রীর চিকিৎসা করার জন্য।

জীবক এর কর্ম জীবন: Jivaka’s Work Life

তখনো পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনও রুগীর চিকিৎসা করেন নি জীবক। তাই বড় বড় চিকিৎসকরা যে রোগ ভাল করতে ব্যর্থ হয়েছেন সে ব্যাপারে কোন আগ্রহ দেখাবার সাহস পেলেন না তিনি। সবিনয়ে নিজের অক্ষমতার কথা জানালেন সওদাগরকে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সওদাগরের পীড়াপীড়িতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও সওদাগরের রোগ-পীড়িত স্ত্রীকে দেখতে যেতে হল।

রুগীকে যথাযথ পরীক্ষা করার পর জীবক বিশেষ কিছু ভেষজ গুঁড়ো করে তার সঙ্গে ঘি মিশিয়ে খলনুড়িতে মেড়ে একটি পাত্রে জ্বাল দিলেন। তারপর তরল পদার্থটিকে অন্য এক পাত্রে নিয়ে সওদাগর-পত্নীকে দিলেন। বললেন চিৎ হয়ে শুয়ে একটু একটু করে তরলটি নাক দিয়ে টেনে নিতে।

সওদাগর-পত্নী অতি কষ্টে অনেক সময় ধরে কাজটি করলেন। তরলটি মুখে চলে এলো। বিস্বাদ ওষুধ। তবু ওই ভাবেই প্রক্রিয়াটি রুগীকে দিয়ে হাতে ধরে করালেন জীবক।

আরও পড়ুন: বিজ্ঞানী চরক এর জীবনী

ঘন্টা দুই পরেই মন্ত্রের মতো কাজ পাওয়া গেল। অসহ্য মাথার যন্ত্রণায় সাত বছর ধরে শয্যাশায়ী যে রুগী তিনি প্রশান্ত হাসি মুখে নিয়ে ধীরে ধীরে শয্যায় উঠে বসলেন। সমস্ত যন্ত্রণা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।

তরুণ চিকিৎসক জীবক এইভাবে তাঁর প্রথম চিকিৎসাতেই অসাধারণ সাফল্য পেলেন। লোকের মুখে মুখে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়তে দেরি হল না। কৃতজ্ঞ সওদাগর উপযুক্ত মর্যাদায় জীবকের হাতে তুলে দিলেন তখনকার মুদ্রায় ১৬০০ কার্ষাপণ। সেই সঙ্গে উপহার দিলেন এক ক্রীতদাস, এক ক্রীতদাসী ও একটি রথ।

সমস্ত উপহার নিয়ে জীবন ফিরে এলেন রাজগৃহে। তাঁর পালক পিতা যুবরাজ অভয় এতদিন পরে জীবককে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হলেন। তারপর তাঁর কৃতিত্বের সংবাদ পেয়ে মুগ্ধ হন। জীবক সওদাগরের দেওয়া যাবতীয় উপহার পিতৃপ্রণামী হিসেবে তুলে দেন অভয়ের হাতে। জীবকের ব্যবহারে অভিভূত হন যুবরাজ।

এর পরেই জীবকের জীবনে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। অভয় জীবকের চিকিৎসা গবেষণার জন্য রাজপ্রাসাদের মধ্যেই সব ব্যবস্থা করে দেন। সেখানেই নগরীর রুগীদের চিকিৎসা আরম্ভ করলেন জীবক। চিকিৎসার পাশাপাশি চলতে থাকে গবেষণার কাজও।

আরও পড়ুন: বিজ্ঞানী আর্যভট্ট এর জীবনী

খ্রিঃ পূঃ ৫৪৯ অব্দ। এই সময়ে মহারাজ বিম্বিসার হঠাৎ মলদ্বারের কঠিন রোগে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন। অসহ্য যন্ত্রণা তার সঙ্গে রক্তক্ষরণ। দিন দিনই তাঁর অবস্থা খারাপ হতে লাগল।

খবর পেয়ে ছুটে যান জীবক। রাজার অনুরোধে গ্রহণ করেন তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব।

প্রথমে তিনি রুগীকে ভালভাবে পরীক্ষা করলেন। তারপর তাঁর পরীক্ষাগারে গিয়ে নানা ভেষজ মিশিয়ে তৈরি করলেন এক আশ্চর্য মলম।

এই মলম দিনে দুবার করে এক সপ্তাহ ব্যবহার করেই রাজা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন।

জীবক এর পুরস্কার ও সম্মান: Jivaka’s Awards And Honors

আনন্দিত বিম্বিসার দুহাত ভরে নবীন চিকিৎসককে উপহার দিলেন। কেবল তাই নয়, অবিলম্বে জীবককে নিযুক্ত করলেন প্রধান রাজচিকিৎসকের পদে।

এরপরেই ঘটে ভারত ইতিহাসের এক স্মরণীয় ঘটনা। মগধ সাম্রাজ্যের মহাপরাক্রান্ত সম্রাট ভগবান বুদ্ধের কাছে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করলেন। বৌদ্ধধর্ম হল রাজধর্ম। এই ঘটনায় বৌদ্ধধর্ম প্রসারের পথ আরও সুগম হল।

সমগ্র ভারত ক্রমেই উত্তাল হয়ে ওঠে বুদ্ধদেবের প্রচারিত মহামন্ত্রে।

অনুপ্রাণিত জীবক শরণ নিলেন বুদ্ধের। মহারাজ বিম্বিসার বুদ্ধদেব ও তাঁর সঙ্ঘের সন্ন্যাসীদের চিকিৎসার ভার অর্পণ করলেন জীবকের হাতে। তাঁর কর্মব্যস্ত জীবনের ব্যস্ততা আরও বাড়ল ।

সেই সময়ে অবন্তী রাজ্যে রাজত্ব করতেন রাজা কন্দপ্পজোত। হঠাৎ তিনি আক্রান্ত হলেন দুরারোগ্য কমলা রোগে। রাজার সমস্ত শরীরের রং হয়েছে হলুদবর্ণ। সেই সঙ্গে দুর্বলতা। কন্দপ্পজোত দিন দিনই অশক্ত হয়ে পড়তে লাগলেন। রাজবৈদ্যদের চিকিৎসাতেও কোন ফল দর্শাল না। দূর-দূরান্ত থেকে নামী চিকিৎসকদের আনা হল। কিন্তু রোগ নিরাময়ের কোন লক্ষণই দেখা গেল না।

শেষ পর্যন্ত অবন্তীরাজ চিঠি পাঠালেন বিম্বিসারের কাছে। রাজচিকিৎসক জীবককে পাঠিয়ে তাঁর প্রাণ রক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানালেন।

আরও পড়ুন: মহাকবি কালিদাস জীবনী

সেই করুণ চিঠি পেয়ে বিম্বিসার জীবককে পাঠিয়ে দিলেন অবন্তী নগরে। নবীন চিকিৎসক যথারীতি রুগীকে দেখলেন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য যে ওষুধের কথা তিনি বিবেচনা করলেন, তা প্রয়োগে আকস্মিক বাধার সম্মুখীন হলেন তিনি। কথাপ্রসঙ্গে জীবক শুনলেন, রাজা কখনো ঘি খান না, এমন কি ঘি নাম পর্যন্ত সহ্য করতে পারেন না। অথচ জীবকের ওষুধ হবে ঘৃতপক্ক।

কিন্তু রুগীর চিকিৎসা তো তাঁকে করতে হবে। ভেবেচিন্তে এক কৌশল অবলম্বন করলেন জীবক। যথাবিধি ওষুধ প্রস্তুত করে রাজার সেবকের হাতে দিয়ে বললেন, কিছুক্ষণ পরেই যেন সেটি রাজাকে খাইয়ে দেওয়া হয়।

ওষুধ হস্তান্তর করে তিনি আর সেখানে অপেক্ষা করলেন না। সঙ্গে সঙ্গে হাতীতে চড়ে রওনা হলেন রাজগৃহের পথে।

এদিকে অবন্তীরাজ ওষুধ গলায় ঢালার পরেই বুঝতে পারলেন সেটি ঘৃতপক্ব। সব জেনেশুনে জীবক তাঁকে ঘৃতমিশ্রিত ওষুধই খাইয়েছে। ক্রোধে হিতাহিত জ্ঞান হারালেন তিনি। তখনই এক বলশালী ক্রীতদাসকে পাঠালেন জীবককে ধরে আনার জন্য।

এদিকে চলতে চলতে পার্শ্ববর্তী কেশাম্বী নগরে পৌঁছেছেন জীবক। সকালবেলা এক পিপুল গাছের নিচে বসেছেন প্রাতঃরাশ নিয়ে। এমন সময় রাজাদেশ নিয়ে উপস্থিত হল অবন্তীরাজের সেই ক্রীতদাস। তখনই তাঁকে ফিরে যেতে হবে রাজার কাছে। ক্রীতদাস জানালেন, প্রয়োজন হলে জীবককে বেঁধে নিয়ে যেতেও সে পিছপা হবে না।

ধীরভাবে সবকথা শুনলেন জীবক। তিনি হেসে বললেন, প্রাতরাশ শেষ করেই তিনি যাবেন তার সঙ্গে।

এই বলে সাদরে সামান্য আমলকী ফল ক্রীতদাসটিকে দিলেন খাবার জন্য। আহ্লাদিত হয়ে লোকটি ফল মুখে দেয়। তারপরেই ছুটল পেট। তরল পায়খানা করে করে নেতিয়ে পড়ল তার শরীর।

বেচারা তখন জীবককে কাকুতি মিনতি করে তার প্রাণ বাঁচাবার অনুরোধ জানাতে লাগল ।

জীবক তখন লোকটিকে তার পালিয়ে আসার কারণ খুলে জানিয়ে বলেন, তাঁকে মগধে চলে যাবার সুযোগ করে দিলে তিনি তাকে সুস্থ হওয়ার ওষুধ দেবেন।

প্রাণের দায়ে দাসটি জীবকের প্রস্তাবে সম্মত হয়। জীবক তখন তাকে আর এক ওষুধ দিয়ে সুস্থ করে তোলেন।

এরপর জীবক মগধের দিকে রওনা হন। আর দাসটি ফিরে গিয়ে অবন্তীরাজকে জানায় জীবকের সন্ধান পাওয়া গেল না।

জীবক যে অষুধ রেখে গিয়েছিলেন তা খেয়ে অবন্তীরাজ কন্দপ্পজোত অল্পদিনেই সুস্থ হয়ে উঠলেন। জীবকের প্রতি অন্যায় আচরণের জন্য খুবই অনুতপ্ত হলেন তিনি। জীবককে অবন্তীতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে পত্র পাঠালেন। মহারাজ বিম্বিসারই দূতকে বলে পাঠালেন, জীবকের আর অবন্তীতে যাওয়া সম্ভব নয়।

অনুতপ্ত লাঞ্ছিত অবন্তীরাজ শেষ পর্যন্ত দূতের হাত দিয়েই উৎকৃষ্ট রেশম বস্ত্র জীবকের জন্য উপহার পাঠিয়ে দিলেন। সেই রাজকীয় উপহার বুদ্ধের চরণে উৎসর্গ করে ধন্য হলেন জীবক ।

জীবকের রোগ চিকিৎসার মধ্যে অস্ত্র-চিকিৎসাও অর্ন্তভুক্ত। প্রয়োজনে তিনি নিজেই রুগীর দেহে অস্ত্রোপচার করতেন। বৌদ্ধগ্রন্থগুলোতে তাঁর অস্ত্র চিকিৎসার অনেক চমকপ্রদ ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

শারীরবিদ্যা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলে দক্ষ শল্য চিকিৎসক হওয়া যায় না। জীবক সেই বিদ্যাও অধিগত করেছিলেন।

একবার রাজগৃহের এক বণিকের চিকিৎসা করেছিলেন জীবক। দেশ বিদেশে ঘুরে বহুকাল বাণিজ্য করেছেন সেই বণিক। কিন্তু শেষ বয়সে মস্তিষ্কের দুরারোগ্য ব্যাধিতে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন।

অর্থের অভাব নেই। তাই দেশ বিদেশের নামকরা বৈদ্যরা এসে একে একে জড়ো হল বণিকভবনে। কিন্তু তাদের সকলেরই এক অভিমত, বণিকের রোগ দুরারোগ্য। তাকে সুস্থ করে তোলার কোন ওষুধ তাদের জানা নেই।

মৃত্যুর মুখে এসে পৌঁছান বণিক। শেষ পর্যন্ত তিনি রাজা বিম্বিসারের শরণ নিলেন। অনুরোধ জানালেন রাজবৈদ্য জীবক যেন তাঁর চিকিৎসা করেন। মরতে হলে তাঁর হাতেই তিনি মরতে চান।

বণিকের কাতর অনুরোধে জীবককে বণিকের চিকিৎসার জন্য পাঠালেন বিম্বিসার। জীবক যথারীতি রুগীর পরীক্ষা করে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিলেন।

রুগীও সম্মতি জানালেন। জীবক তাঁকে পুনরায় জানালেন, অস্ত্রোপচারের পর সাত মাস করে তাঁকে ডান বাম ও চিৎ হয়ে মোট একুশ মাস শুয়ে থাকতে হবে। তাহলেই তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।

বণিক হাসিমুখে সম্মতি জানিয়ে জীবককে অবিলম্বে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করলেন।

সম্ভবতঃ সেই যুগে জীবকই প্রথম মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করেছিলেন। প্রাচীন ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এরূপ ঘটনার কোন নজির পাওয়া যায় না।

বণিকের সম্মতি পাবার পর তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করে জীবক ভেতর থেকে বার করে আনলেন দুটো অতি ক্ষুদ্র কীট। তিনি জানালেন এই কীটের দংশনেই বণিকের পীড়ার উৎপত্তি। কয়েকদিনের মধ্যেই এই কীট মস্তিষ্কের আরও গভীরে ঢুকে বণিকের মৃত্যু ঘটাত।

নিজের হাতেই কাটা ছেঁড়া চামড়া সেলাই করে তাতে নানা ধরনের ভেষজ প্রলেপ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিলেন।

এবারে বিশ্রামের পর্ব। সাত দিন করে ডান, বাম ও পাশে কাত হয়ে ও চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে হবে মোট একুশ মাস।

কিন্তু এই নিয়মে একুশ দিন চলার পরেই অস্থির হয়ে উঠলেন বণিক। তিনি জীবককে জানালেন, তাঁর পক্ষে এই নিয়ম পালন করা সম্ভব হবে না।

জীবক তাঁকে অভয় দিয়ে বলেন, তার আর দরকার হবে না, তিনি ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে গেছেন। নিয়ম মতো একুশ দিনই বিশ্রাম করার কথা। তা তিনি করেছেন। রুগীর ধৈর্য পরীক্ষার জন্যই তিনি একুশ মাস বিশ্রামের কথা বলেছিলেন।

জীবকের সুচিকিৎসায় বণিক জীবন ফিরে পেলেন। কৃতজ্ঞতারবশে তিনি তাঁর জীবন রক্ষাকারীকে সমস্ত বিষয় সম্পত্তি দান করতে চাইলেন।

আরও পড়ুন: মহর্ষি বাল্মীকি জীবনী

অর্থ বিষয় আশয়ের প্রতি জীবক ছিলেন নির্লোভ। বুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত তাঁর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষের সেবা। তাঁর উপার্জনের সমস্ত অংশই তিনি ব্যয় করতেন আর্ত মানুষের কল্যাণের কাজে। তাই তিনি বণিকের কাছ থেকে মাত্র এক লক্ষ কার্ষাপণ নিয়েছিলেন। আর তাঁর নির্দেশে বণিক রাজাকেও এক লক্ষ কার্ষাপণ প্রণামী দিয়েছিলেন।

জীবকের এই কীর্তির কথা জেতবনে অবস্থানকারী বুদ্ধের কাছেও পৌঁছায়।

তাঁর প্রশংসা করে বুদ্ধ শিষ্যদের ডেকে বললেন, ‘নির্লোভ জীবকের বিস্ময়কর চিকিৎসা দেখো। তাঁর লোভশূন্য জীবনকে তোমরা শ্রদ্ধা করতে শেখো।’ জীবকের অত্যাশ্চার্য অস্ত্র-চিকিৎসার আর একটি ঘটনা ঘটে কিছুদিনের মধ্যেই।

নগরের এক ব্যায়ামবিদ নানা কসরৎ দেখিয়ে তার জীবিকা অর্জন করেন। একবার রাজগৃহে ব্যায়ামের কসরৎ দেখানোর সময় হঠাৎ তলপেটে আঘাত পেয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু তলপেটের অসহ্য ব্যথায় তিনি ছটফট করতে থাকেন। খাবাব খেতে পারেন না, দিন দিন শরীর শীর্ণ হয়ে পড়ছে।

বৃদ্ধ বৈদ্যরা ব্যায়ামবিদকে পরীক্ষা করে বলেন, কোনও ওষুধে কাজ হবে না। অস্ত্রের নাড়িভুঁড়ি জট পাকিয়ে বিশৃঙ্খল হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে রাজা পাঠিয়ে দিলেন জীবককে। তিনি এসে ব্যবস্থা করেন অস্ত্রোপচারের। নির্জন ঘরে সহকারীদের নিয়ে জীবক ব্যায়ামবিদের পেট কেটে বাইরে নিয়ে আসেন অস্ত্রটিকে। তারপর সন্তর্পণে নাড়িভুঁড়ির জট ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে পুনরায় যথাস্থানে বসিয়ে দেন।

পেট সেলাই করে কাটা স্থানে ভেষজ ওষুধ লাগিয়ে জীবক চলে আসেন তাঁর বাড়িতে।

কিছুদিন পরেই জীবক শুনতে পেলেন সেই তরুণ ব্যায়ামবীর আগের চেয়েও দ্বিগুণ তেজে তাঁর ব্যায়ামের কসরৎ দেখাতে শুরু করেছেন। তারপর একদিন কৃতজ্ঞ ব্যায়ামবিদ জীবকের কাছে এসে তাঁর হাতে তুলে দিলেন ১৬০০০০ কার্যাপণের তোড়া।

অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতকের জীবক ছিলেন ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতার অধিকারী। মানবদেহের ভেতরকার অন্ধসন্ধি সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা ও রোগের অভ্রান্ত নিদান ব্যবস্থায় সেযুগে তাঁর তুলনা ছিলেন তিনি নিজেই। অথচ তিনি নির্লোভ জীবনে অতি সাধারণ ভাবেই দিনাতিপাত করতেন।

অর্থ তাঁর কাছে এসেছে স্রোতের মতো। আবার সেই অর্থ তিনি অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন দীন-দুঃখীর সেবায়।

বুদ্ধ ছিলেন তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা। যখনই কোনও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন, বুদ্ধের কাছে ছুটে এসে তার সমাধান জেনে আশ্বস্ত হয়েছেন। একবার স্বয়ং বুদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পিত্তরসের গোলযোগ তাঁকে খুবই কষ্ট দিতে লাগল ।

খবর গেল জীবকের কাছে। ছুটে এসে তিনি নিজের হাতে তুলে নিলেন মানবত্রাতার চিকিৎসার ভার।

বুদ্ধের শরীরে কয়েকদিন বিশেষ ধরনের চর্বি নিজের হাতে মালিশ করলেন জীবক। এরপর কিছু পদ্মের পাপড়িতে ছড়িয়ে দেন এক ভেষজের গুঁড়ো। বুদ্ধকে টানা কয়েকদিন তা নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।

সব ব্যবস্থা করে বাড়ি ফিরে চললেন জীবক। পথে হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল, বুদ্ধকে যে বিরোচক ওষুধ দিয়েছেন, তার ফল তো পাওয়া যাবে না গরম জলে স্নান না করলে। অথচ তাড়াহুড়োয় এই গুরুত্বপূর্ণ কথাটাই তাঁকে বলে আসা হয়নি। দুর্ভাবনায় কাতর হয়ে পড়েন জীবক।

এদিকে বুদ্ধের নির্মল হৃদয়ে জীবকের মনোবেদনার প্রতিফলন পড়ে। তখন তিনি নিজেই উষ্ণজলে স্নানের ব্যবস্থা করেন।

জীবক এর আবিষ্কার: Discovery by Jivaka

বৌদ্ধ শাস্ত্রকারদের লেখা থেকে জানা যায়, জীবকের চিকিৎসকজীবনে একাধিকবার সুযোগ এসেছে বুদ্ধের মহাজীবনের চিকিৎসা করার। আবার সেই চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বুদ্ধের জীবনের অলৌকিকতার প্রকাশ।

বুদ্ধের এক স্বার্থপর জ্ঞাতিভাই দেবদত্ত। ঈর্ষান্বিত হয়ে তিনি নিজেও এক ধর্মমত প্রচার করতে থাকেন। কিন্তু তাঁর অন্তঃসারশূন্য কথার চমক লোকের মন জয় করতে পারে না। দু-একজন যারা তাকে অনুসরণ করেছিল, তারাও কদিন পরে ভুল বুঝতে পেরে বুদ্ধের কাছে ছুটে চলে যান ।

নিরুপায় হয়ে ক্রোধান্বিত দেবদত্ত বুদ্ধকে হত্যা করার সঙ্কল্প করেন। সুযোগ আসতেও বিলম্ব হয় না। একদিন রাজগৃহ নগরী থেকে দূরে এক পাহাড়ের পাদদেশে মধুকুচি নামক স্থানে একাকী পায়চারি করছেন বুদ্ধ। সবে সকাল হয়েছে। এমন সময় প্রতিহিংসাপরায়ণ দেবদত্ত পাহাড়ের ওপর থেকে বুদ্ধকে লক্ষ্য করে মস্ত এক পাথর গড়িয়ে দেন।

সৌভাগ্যক্রমে গড়িয়ে পড়া পাথরখণ্ডটি বুদ্ধের ক্ষতি করতে পারে না। তাঁর পা ছুঁয়ে নিচে গড়িয়ে যায়। কিন্তু সেই সামান্য আঘাতেই বুদ্ধের পা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। আহত বুদ্ধকে তাঁর শিষ্যরা বয়ে নিয়ে আসেন আম্রবনে।

জীবক তখন সেখানেই অবস্থান করছিলেন। তিনি বুদ্ধের পায়ের ক্ষত ধুয়ে ভেষজের প্রলেপ লাগিয়ে ব্যাণ্ডেজ বেঁধে দেন। সেই সময়েই জরুরী ডাক পেয়ে জীবককে মহানগরী রাজগৃহের বাইরে চলে যেতে হয়। যাবার আগে তিনি বুদ্ধের সেবকদের বলে যান, ফিরে এসেই ব্যাণ্ডেজ খুলবেন।

দুর্ভাগ্যক্রমে রুগী দেখে তাঁর ফিরতে দেরি হয়ে যায়। তিনি যখন নগর প্রাকারের দ্বারে পৌঁছান তখন রক্ষীরা সকলে চলে গেছে। অস্থির হয়ে পড়েন জীবক। বুদ্ধের পায়ের ব্যাণ্ডেজ যে খুলে দিতে হবে। না হলে তিনি তো প্রচন্ড ব্যথায় কষ্ট পাবেন, রাত্রে ঘুমোতে পারবেন না। ক্ষতিকারক কোন প্রতিক্রিয়া হওয়াও অসম্ভব নয়।

এসব ভেবে দিশাহারা জীবক কেবলই ছটফট করতে থাকেন।

ওদিকে অমিতাভ বুদ্ধের চিন্তায় জীবকের কাতরতার প্রতিফলন পড়ে। সে রাতে তিনি পায়ের ব্যাণ্ডেজ খুলেই ঘুমোতে যান।

চিকিৎসক জীবক এর অবদান: Contribution of Physician Jivaka

চিকিৎসক জীবক নির্বিচারে সব শ্রেণীর মানুষেরই চিকিৎসা করেছেন। ধনী দরিদ্র, রাজা-রাজড়া, পর্ণকুটিরবাসী সবার জন্যই জীবকের গৃহ ছিল অবারিত দ্বার। অসংখ্য দীনদুঃখীকে বিনা পারিশ্রমিকেই তিনি রোগযন্ত্রণা থেকে মুক্ত করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন দান করেছেন।

তাঁর কর্মব্যস্ততার বিরাম ছিল না। কাজের চাপে তবুও কখনও ধৈর্যচ্যুত হতে দেখা যায় নি তাঁকে। সঙ্ঘের সন্ন্যাসীদেরও নিয়মিত চিকিৎসা করেছেন তিনি। জীবকের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধান্বিত ছিলেন বুদ্ধ নিজেও। তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি প্রায়ই শিষ্যদের বলতেন, “জীবককে সামান্য ভেবো না। তিনি এক ছদ্মবেশী মহাত্মা। এই জীবনেই পান করছেন অমরত্বের অমৃত।”

বুদ্ধ আর জীবক- দুজনের জীবন ছিল ওতপ্রোত। প্রতিদিন নিদ্রাভঙ্গের পর বুদ্ধের চরণ বন্দনা সেরে জীবক বসতেন লোক-চিকিৎসায়। আবার দিনের শেষে, সূর্য অস্তমিত হলে জীবক জেতবনে আসতেন বুদ্ধদর্শনে।

রাজগৃহের আম্রবন, যা জেতবন নামে পরিচিত হয়েছিল, সেখানেই ছিল জীবকের নিবাস।

বুদ্ধসঙ্ঘের সন্ন্যাসীদের আত্মা আলোকিত ছিল বুদ্ধের জ্ঞানালোকে। বহিরঙ্গ জীবনে তাঁদের স্বাস্থ্য অটুট রাখতো জীবকের স্বাস্থ্যরক্ষার অনুশাসন। তাঁর অনুরোধেই বুদ্ধ তাঁর সঙ্ঘের সন্ন্যাসীদের প্রতিদিন হালকা শরীরচর্চার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁদের বাসস্থান নির্দিষ্ট হয়েছিল মুক্ত স্থানে।

চিকিৎসক জীবকের মহাজীবনের মর্মলোকটি ছিল মানবতার অমৃতধারায় অভিসিঞ্চিত। একাধারে তিনি ছিলেন একজন সফল নির্লোভ আর্তের কাণ্ডারী মহাচিকিৎসক ও একজন সৎ, উদার, বুদ্ধগতপ্রাণ মহান মানুষ। তাই কি রাজদ্বারে কি দরিদ্রের পর্ণকুটিরে, সর্বত্রই ছিল তাঁর সমান সমাদর। তাঁর মহাজীবনের সংস্পর্শে নিষ্ঠুর নির্দয় বুদ্ধবিদ্বেষী রাজগৃহের রাজপুত্র অজাতশত্রুর হৃদয়েরও পরিবর্তন ঘটেছিল। অনুতাপের অশ্রুবিসর্জন করে তিনি শরণ নিয়েছিলেন তথাগত বুদ্ধের। বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ঘের শরণ-ধ্বনি অবিরাম উচ্চারিত হয়েছিল তাঁর মুখে।

ভারতবর্ষের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে জীবক তাঁর জীবন ও কর্মের আলোকে আলোকিত এক আলোকস্তম্ভ স্বরূপ বিরাজমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here